লংগদু গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে ঢাকায় পিসিপির আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

0


ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বর্বরোচিত লংগদু গণহত্যার ৩৭ বছর উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে ঢাকায় আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।

শত শহীদের আত্মবলিদান জ্বেলে দিক প্রতিবাদের অগ্নিমশাল” এই স্লোগানে আজ ৪ মে ২০২৬, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

আলোচনা সভায় পিসিপির ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক অংসালা মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রুপসী চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা।

জিকো ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্বরোচিত লংগদু গণহত্যার বিচারহীনতার ৩৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। আজকের এই দিনে সেনা-ভিডিপির সহায়তায় সেটলাররা সংগঠিত হয়ে এই গণহত্যা চালিয়ছিল। এ গণহত্যাসহ পাহাড়িদের ওপর এ যাবত ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত করা হয়েছে।

রুপসী চাকমা বলেন, লংগদু গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে ঢাকায় মৌন মিছিলের মাধ্যমে পিসিপির গঠন এবং নব্বই দশকের পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী উত্থান এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি বলেন. এই গণহত্যা তদন্তের জন্য চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় ও গৌতম দেওয়ানের নেতৃত্বে ২২ জনের কমিটি গঠন করার পরেও কোন সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয়নি।

রোনাল চাকমা বলেন, ১৯৮৯ সালের ৪ঠা মে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ আর্মি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) মদদে সেটলার বাঙালি কর্তৃক সংঘটিত হয় ভয়াবহ লংগদু হত্যাযজ্ঞ। পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে পরিকল্পিতভাবে এ গণহত্যা চালানো হয়। এতে বহু পাহাড়ি হতাহত ও নিহত হয়। সেটলাররা পাহাড়িদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং বৌদ্ধ মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। পবিত্র বুদ্ধ মুর্তি ধ্বংস করে দেয়। লংগদু গণহত্যা উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের জাতিগত ঘৃণা ও ধর্মীয় অবমাননার নিকৃষ্ট রুপ। যা পাহাড়িদের জনজীবনের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

তিনি আরো বলেন, আজ ৩৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও লংগদু গণহত্যার কোন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি।

তিনি বলেন, এই বর্বরতম লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে পাহাড়িদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ-বিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। জন্ম নেয় লড়াকু ছাত্র সংগঠন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন করে সূচনা হয় বুক চিতিয়ে বাঁচার স্বপ্ন।

বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিচয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বান্দরবানে শিক্ষার নামে শিশুদের ধর্মান্তরিত করা, নিরীহ নারী শিশু বমদের কারাগারে বন্দী রাখার কৌশল ও জাতিগত শাস্তির পর্যায়ে শোষণ হওয়ার প্রক্রিয়াটাকে জাতিসংঘের মতে গণহত্যা বলে। পাহাড়ের বর্তমান যে বিরাজমান পরিস্থিতি চলছে তাতে একটা জাতি পুরোপুরি শেষ না হলেও নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম বাস্তবতা নেই। রাষ্ট্রীয় বাহিনী দমন-পীড়নের কৌশল, পদ্ধতি প্রয়োগ করে পাহাড়িদের জাতিগতভাবে ধ্বংসের জন্য নীলনক্সা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নেশাগ্রস্ত করার মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি এ থেকে ছাত্র-যুব সমাজকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বাহাদুর ত্রিপুরা বলেন, একটি জাতিকে বিলীন করার জন্য শাসকগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। একটি জাতিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মান্তরিত করার মাধ্যমেও যখন শাসকগোষ্ঠী দমিয়ে রাখতে পারে না তখন বিকল্প হিসেবে গণহত্যা চালানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনের অধিক গণহত্যা তারই সাক্ষ্য বহন করে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ ও বিচারের দাবি জানান।

আলোচনা সভা শেষে অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশে লংগদু গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এতে ঢাকাস্থ পিসিপি’র নেতা-কর্মীসহ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পূর্বে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More