কাউখালীর ঘাগড়া এলাকায় সেনাবাহিনী ও সন্তু গ্রুপের পাশাপাশি অবস্থান!

0

কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাঙামাটির কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে সেনাবাহিনী ও জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের পাশাপাশি অবস্থানের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৬টার দিকে বিপ্লব চাকমার নেতৃত্বে সন্তু গ্রুপের ২০-২৬ জন একদল সশস্ত্র সদস্য চৌচালাবিলি থেকে মিতিঙ্গাছড়ি গাজী দোকান হয়ে মিতিঙ্গাছড়ি সীমান্ত (ধুরধুরিছড়া) বাঁশ বাগানের টিলার উপর অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে সকাল ১০:৩০টার সময় কাউখালি সাব-জোন থেকে ক্যাপ্টেন রনজিৎ-এর নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য ২টি গাড়িতে করে কাউখালি-ঘাগড়া সড়ক হয়ে মিতিঙ্গাছড়ি রাস্তা দিয়ে টহল দেয়। বর্তমানে সেনাদলটি মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের বর্ণনা মতে, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা যে টিলার উপর অবস্থান করছে তার নীচে মিতিঙ্গাছড়ি যাওয়ার রাস্তা। সেনাবাহিনী ও সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এমন কাছাকাছি অবস্থানকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুরুব্বি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেএসএস সরাসরি বিএনপিকে সমর্থন করে। এরই প্রতিদান স্বরূপ হয়তো আজকে আমাদের গ্রামে সেনাবাহিনী ও জেএসএস’র সশস্ত্র লোকজন কাছাকাছি অবস্থান করছে। মূলত জেএসএসের সশস্ত্র লোকজনকে নিরাপত্তা দিতে সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে অবস্থান নিয়েছে বলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, মিতিঙ্গাছড়ি ধর্মগিরি সাধনা কুঠিরের (অর্থদর্শী ওরফে বটপাতা ভান্তের বিহার) বড় বুদ্ধ মূর্তির কাছে একটি টিলার উপর জেএসএসের আরো একদল সশস্ত্র লোক অবস্থান করছে, যা সেনাবাহিনীর অবস্থান থেকে দূরত্ব মাত্র ৫০০ গজের মধ্যে।

বিভিন্ন সময় তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী’ খোঁজার নামে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে নিরীহ জনগণকে হয়রানি করলেও তারা মিতিঙ্গাছড়িতে অবস্থানরত সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করছে না। উল্টো পাশাপাশি স্থানে অবস্থান করছে। ফলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় কাউখালীর ঘাগড়া ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা চৌচলাবিলি, রাজখালি, সাদেক্যেবিলি, রৈস্যাবিলি, মিতিঙ্গাছড়ি, বেতছড়ি, ধুল্লেছড়ি, মঘাছড়ি ও যৌথবাগানে অবস্থান করে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

এর প্রতিবাদে কাউখালি সদরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রতিবাদ সমাবেশ, সেনা প্রধানের বরাবরে স্মারকলিপি পেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করলেও সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More