পাহাড়ি অধ্যুষিত আলুটিলায় মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ ও শঙ্কা

0
সংগৃহিত ছবি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

খাগড়াছড়ির পর্যটন এলাকা আলুটিলায় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই এলাকায় স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মূলত আলুটিলা এলাকাটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এলাকাটি কেবল একটি বসবাসের স্থান নয়, বরং তাদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রতীক। তবে আলুটিলাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যাপকভাবে গড়ে তোলার ফলে স্থানীয় পাহাড়িদের জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে স্থায়ী কোন বাঙালি বসতি নেই। পাহাড়িরাই সেখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। তবে পর্যটন স্পট হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সেখানে ভ্রমণে আসেন। এর ফলে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠির ওপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এতে তাদের স্বকীয়তা নিয়ে টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতবিনিময় ছাড়াই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়াকে তারা উদ্বেগজনক ও তাদের স্বকীয়তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, আলুটিলা শুধুমাত্র একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রতীক। তাই এ অঞ্চলের স্বকীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, সংস্কৃতি ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যথায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হয়। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও তাদের স্বকীয় পরিচয় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More