অন্য মিডিয়া

আলীকদমের দুর্গম এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, ৩০ শয্যার হাসপাতালে শতাধিক রোগী

0
হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছবি: ডেইলি স্টার 

অন্য মিডিয়া ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় পরিবারগুলো। প্রতিদিন নতুন করে ১০ থেকে ১৫ জন শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে।

গতকাল বুধবার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের পাহাড়ি ম্রো পাড়াগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেক শিশু জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও দুর্বলতায় ভুগছে। চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ যাতায়াতের সংকটে অনেক রোগীকেই সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালে হামসহ বিভিন্ন রোগে ভর্তি ছিলেন ১০১ জন। এর মধ্যে ৭৭ জনই হামে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট শনাক্ত হামের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জনে।

একদিনেই নতুন করে ১৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ১৩৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৮ রোগী।

একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু এবং তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩০ শয্যার হাসপাতাল। কিন্তু বর্তমানে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ জন রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৩০ রোগীর ধারণক্ষমতার জায়গায় চারগুণের বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি।

আজ সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, জেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

ডা. শাহীন হোসাইন বলেন, আলীকদম ও কুরুকপাতা ইউনিয়নে ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৭ হাজার ৯৩২ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৪৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ অর্জন হয়েছে।

তবে কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ও অনেক শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি সাংবাদিকরা তুলে ধরলে তিনি বলেন, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হয়তো কিছু গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি। ফলে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেদন: মংসিং হাই মারমা, সৌজন্যে: ডেইলি স্টার বাংলা



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More