যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে কুদুকছড়িতে সংবাদ সম্মেলন

0


রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমা’র হত্যাকারী জেএসএস(সন্তু)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাঙামাটি কুদুকছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছ সংগঠনটি।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১:০০টার সময় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থুইনুমং মারমা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চয়ন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিপনা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রিনিশা চাকমা ও সদ্য শহীদ ধর্মশিং চাকমার সহধর্মিনী রুনা চাকমা।

লিখিত বক্তব্যে যুবনেতা থুইনুমং মারমার বলেন, “পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী মহান বৈ-সা-বি উৎসবের আমেজ শেষ হতে না হতে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক পৌনে ৬টার সময়ে কুদুকছড়ি উপরপাড়া (আবাসিক) এলাকায় এসে জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। একই সাথে জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে ধর্মশিং চাকমার আপন দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় একদিকে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে লোকজনের মনে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরী হয়।”


তিনি আরো বলেন, “আমরা দেশে ’২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময়ে আলোচিত আয়নাঘর কিংবা ১/১১ কুশীলবদের বিচার দেখতে পাচ্ছি। অথচ পাহাড়ে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারে বসে সন্তু লারমা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পাহাড়ে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দেশের ইতিহাসে সন্তু লারমা একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিনা নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ক্ষমতায় রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ করে চলেছেন। অথচ তাকে কোন বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদের গদিতে বসিয়ে তার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো বর্তমান সরকারও পাহাড়ে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সন্তু লারমার এই কাপুরুষোচিত ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে ধর্মশিং চাকমার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হুকুমের আসামী সন্তু লারমাসহ সকল জেএসএস সন্তু চক্রের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

১। গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমার খুনী ও তার দুই বোনকে গুরুতর আহত-করার মূল হোতা পাহাড়ে চিহ্নিত খুনী, সন্ত্রাসীদের গডফাদার সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণপূর্বক তার পোষ্য সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

২। সন্তু লারমার ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে যোগসাজশকারী নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩। নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক জনসাধারণের চলাফেরায় অন্যায় হস্তক্ষেপ ও হুমকিমূলক টহল বন্ধ করতে হবে।

৪। শহীদ ধর্মশিং চাকমার বিধবা স্ত্রীর ভরণপোষণ ও আহত দুই বোনের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More