বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মাটিরাঙ্গায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ

মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় তবলছড়ি পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সকাল ৯ টার সময় তবলছড়ি গ্রীন কলেজ, বামাগোমতি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিশ্বরাম পাড়া বেসকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নদীর পাশে কৃষ্ণচূড়া, গর্জন, তালগাছ ও নারকেল গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল- “রাবার, সেগুন, ইউক্যালিপটাসসহ বিদেশি প্রজাতির গাছের বিস্তার ঘটিয়ে প্রাকৃতিক বনজঙ্গল বিপন্ন করবেন না; পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন।”


সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতী এবং এলাকার শিক্ষক, কার্বারি, হেডম্যান, জনপ্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তবলছড়ি কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়।
বৃক্ষরোপণের পূর্বে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। এতে তবলছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বাবু লাল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, এলাকার হেডম্যান অলিন ত্রিপুরা ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রাজু ত্রিপুরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন টিপু রঞ্জন ত্রিপুরা।

বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশগত সংকট ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস, বন উজাড় এবং পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু মানুষের ওপর নয়, প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের ওপরও পড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার সংগ্রাম এখন কেবল একটি দিবস পালনের বিষয় নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
রাজু ত্রিপুরা বলেন, পরিবেশ ধ্বংস ও বনভূমি উজাড়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। উন্নয়নের নামে যেন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে টিপু রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, তবলছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের বহু বনভূমি আজ ধ্বংসের মুখে। একসময় ঘন সবুজ বনাঞ্চলে আচ্ছাদিত এলাকাগুলো ক্রমেই উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত জুম ও মিয়োঙ (সোরোন্দরা) চাষ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত পর্যটন সম্প্রসারণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে এবং প্রাকৃতিক বনভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তারা উল্লেখ করেন, জুমের আগুনে মূল্যবান দেশীয় বৃক্ষ এবং বিপুল পরিমাণ বাঁশঝাড় পুড়ে যাচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের ঝিরি, ছড়া ও নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকট দেখা দিচ্ছে।
সভা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ, বনভূমি, নদী-ছড়া ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংসকারী সকল কার্যক্রম বন্ধ করে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
