ইউডব্লিউডিএফ-এর চট্টগ্রাম বন্দর থানা শাখার ৩য় কাউন্সিল সম্পন্ন

0


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

“দুনিয়ার মজদুর এক হও! দালালী, লেজুড়বৃত্তি ও সুবিধাবাদী রাজনীতি পরিহার করে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন বেগবান করুন” এসব স্লোগানে ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রণ্ট(ইউডব্লিউডিএফ)-এর চট্টগ্রাম বন্দর থানা শাখার ৩য় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।   

কাউন্সিল অধিবেশন শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অধিবেশনে ইউডব্লিউডিএফ’র বন্দর থানা শাখার আহ্বায়ক জীবন চাকমার সভাপতিত্বে ও কিরণ চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, পিসিপির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মহামুনি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি পিংকি চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শুভ চাক।

কাউন্সিলে সমর চাকমা বলেন, তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িরা জীবিকার তাগিদে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। এতে একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে অপর দিকে মেশিনের চাকা ঘুরিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করণে অবদান রাখছে। কিন্তু শ্রমিকরা পরিশ্রম অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। বর্তমানে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শ্রমিক শোষণের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই শোষণা বঞ্চনায় খেলায় সবচেয়ে বেশি শোষিত পাহাড়ি জনগণ। মোঘল-বৃটিশরা এক কেজি লবণের বিনিময়ে ১ মণ তুলা আদায় করে শোষণ করেছে। বর্তমানেও পাহাড়ে বাঙালি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সহজ-সরল পাহাড়িদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ন্যায্য দাম না দিয়ে অর্থনৈতিক শোষণ করছে। এক সময় স্বাধীন স্বাতন্ত্র্য রাজ্যের পাহাড়ি জনগণ আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিকভাবে চরম দমন-পীড়ন, শোষণ-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। সেনা-শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত অবর্ণনীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজ ও শ্রমিক একসাথে লড়াই করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শহর বন্দরে অবস্থানরত শ্রমিকদের সংগঠিত থাকতে হবে। যেকোনো জাতীয় প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে হবে। শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নিপীড়নের কারাগার ভেঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন কায়েম করতে হবে। তবেই আমাদের মুক্তি মিলবে।

রিতা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পাহাড়ি শ্রমিকদের বিশাল একটি অংশ অবস্থান করছে। শহরে অবস্থান করলেও জম্মভূমির প্রতি তাদেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে। পাহাড়ে চলমান সেনা দমন-পীড়ন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদেরও সংগঠিত হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।

মহামুনি চাকমা বলেন, চব্বিশে জুলাই গণঅভ্যত্থানের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও দেশের শাসন ব্যবস্থা এখনো পরিবর্তন হয়নি। অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে সেটেলার কর্তৃক ধর্ষণ ও খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও গুইমারায় পাহাড়িদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ করে ঘরবাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদকারী জুনান, রুবেল, আখ্র মার্মাদের সেনাবাহিনী এলোপাতারি গুলি চালিয়ে হত্যা করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এখনো পায়নি।

পিংকি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। প্রতিনিয়ত সেনা-সেটেলার কর্তৃক নির্যাতন, নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। বিচার চাইতে গেলে সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলেও জড়িত ধর্ষকদের যথাযথ বিচার না হওয়ায় বার বার এমন ঘটনা ঘটে থাকে। শহর-বন্দরে বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে পাহাড়ি নারীরা বিপদগামী হচ্ছে মন্তব্য করে তাদেরকে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুভ চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র, যুবক, শ্রমিকসহ সকল পেশাজীবী মানুষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বন্দর এলাকার শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বান্দরবানে নিরীহ বম জনগোষ্ঠীর উপর শাসকগোষ্ঠী জাতিগত নিধনমুলক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। বিনা বিচারে অনেক বমকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার পরও তাদের এভাবে বন্দি রেখে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। সকলকে এই হত্যা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।

তিনি অবিলম্বে কারাবন্দি নিরীহ বমদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কাউন্সিলের ২য় অধিবেশনে অনন্ত চাকমাকে সভাপতি, লিটন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক, পূর্ণ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শুভ চাক।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More