মাদক সেবনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাজেকের ‘হাজাছড়া ঝরনা’ বন্ধ করলো এলাকার যুব সমাজ

0
ঝরনায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে ঝরনা বন্ধের বিষয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন এলাকার যুবক জিকু চাকমা।  

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

বিনোদনের নামে ঝরনায় গিয়ে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাজেকের ১০নং পাড়ায় অবস্থিত ‘হাজাছড়া ঝরনা’ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকার যুব সমাজ।

‘সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটি’র উদ্যোগে আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে এলাকার যুব সমাজের একটি দল ঝরনায় প্রবেশ এলাকায় গিয়ে পর্যটক-দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ঝরনাটি বন্ধের ঘোষণা দেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিনোদনের নামে ঝর্ণায় গিয়ে তরুণ সমাজের একটি অংশ মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা মাদক সেবন করেন। এতে মাতাল অবস্থায় তারা মারামারি করে ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এছাড়া পর্যটক বা দর্শনার্থীরা ঝরনার পাশে ফলজ বাগান (কলা, আনারস, বেল) নষ্ট করে এবং পলিথিন-প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রেখে যায়। এতে পরিবেশ ও ঝরনার নীচে জমির মালিকরা ক্ষতির শিকার হন।

এর আগে প্রশাসন ও এলাকার মুরুব্বীরা ঝরনাটি বন্ধ করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। স্থানীয় কৃষকরাও বার বার ঝরনায় যাওয়া বাধা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তারা কেউই ঝরনাটি বন্ধ করতে সফল হয়নি।

ঝরনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কারণে কয়েকদিন আগে সাজেক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি ঝরনার পাশে ও প্রবেশ পথে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। 

প্রকৃতিকে বাঁচান, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন” শিরোনামের সাইনবোর্ডে তারা ঝরনায় গেলে কি কি করা যাবে না সে বিষয়ে উল্লেখ করেন। সেখানে লেখা রয়েছে- “পলিথিন, প্লাস্টিকের বর্জ্য পদার্থ ঝরনায় যত্রতত্র ফেলা নিষেধ; পচনশীল ময়লা জাতীয় দ্রব্য ঝরনায় ফেলা নিষেধ; আনন্দ বিনোদনের নামে ঝরনায় এসে মাদকদ্রব্য সেবন করা যাবে না; অশালীন-বিশৃঙ্খলা করা যাবে না; স্থানীয় বাগান-বাগিচা মালিকদের ক্ষতি করবেন না।”

কিন্তু এরপরও কোন কাজ না হওয়ায় গত ২৫ আগস্ট ‘সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটি’ তাদের ফেসবুক পেইজে ২৮ আগস্ট থেকে ঝরনাটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় যুব সমাজকে সাথে নিয়ে ঝরনায় যাওয়ার মূল পথ অবরোধ করে ঝরনাটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে যুব সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এখানে টাঙানো সাইনবোর্ডে যা যা লেখা রয়েছে সেগুলো যদি মেনে চলা হতো তাহলে ঝরনাটি বন্ধের প্রয়োজন হতো না।’

যুব সমাজের পক্ষ থেকে ঝরনা বন্ধের বিষয় যার যার অবস্থান থেকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত পর্যটক-দর্শনার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More