খাগড়াছড়িতে ‘রেড স্কোয়ার’ প্রতিষ্ঠার ৩৩তম বার্ষিকীতে চবিতে পিসিপি’র আলোচনা সভা

চবি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
‘৩০ অক্টোবরের’ চেতনায় বীর সাজেকবাসীর পাশে দাঁড়ান, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের গৌরবোজ্জ্বল পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরুন”এই স্লোগানে খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙহিয়ায় ‘রেড স্কোয়ার’ প্রতিষ্ঠার ৩৩তম বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে নারাঙহিয়ায় ‘রেড স্কোয়ার’ প্রতিষ্ঠার ৩৩তম বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পিসিপি, চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাচিংহ্লা মারমা’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ভূবন চাকমা। আলোচনার সভার সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুদর্শন চাকমা।
ভূবন চাকমা বলেন, ১৯৯৩ সালের ৩০ অক্টোবর নান্যাচরে সেনাবাহিনীর হাতে পিসিপির নেতৃবৃন্দের হেনস্থার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি ডিসি অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচির আহ্বান করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিকালে খেজুরবাগান মাঠে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালালে ছাত্র-জনতা সংগঠিত হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় বিক্ষোভ, অবরোধ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে আন্দোলনকে বিস্তৃত করা হয়। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে প্রশাসন আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় এবং আটক নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়। এই ঐতিহাসিক ঐক্য ও প্রতিরোধ যুগ যুগ ধরে লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে সুদর্শন চাকমা বলেন, ১৯৯৩ সালের ৩০ অক্টোবর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ আমাদের লড়াই-সংগ্রামের চেতনাকে আরও শাণিত ও উদ্বুদ্ধ করে। নারাঙহিয়ার ঐতিহাসিক ‘রেড স্কয়ার’ আজও সেই গৌরবময় সংগ্রামের স্মৃতি বহন করে চলেছে। ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেদিন প্রশাসন পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছিল। পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটি ‘অপশক্তি প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পরিচিত।
সুদর্শন চাকমা সাজেকবাসীর চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, তৎকালীন ছাত্র-জনতার মতো আজ সাজেকবাসীও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। পরিহাসের বিষয়, শাসকগোষ্ঠীর অপশক্তি হিসেবে জেএসএস ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসনের মদদে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাজেকবাসীর ওপর হয়রানি ও মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে সাজেকের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সত্যকে কখনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। যারা আন্দোলন করছে জেএসএস সন্ত্রাসীরা তাদের মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। অপশক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার পতন অনিবার্য। যারা অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়ে সাজেকবাসীকে ভীতসন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করছে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তারা নিক্ষিপ্ত হবে। অন্যদিকে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা সাজেকের সাধারণ মানুষই বিজয়ী হবে। তাদের এই লড়াই-সংগ্রাম ইতিহাসের শিক্ষণীয় পাঠ হিসেবে নিপীড়িত ও প্রতিবাদী জনগণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্মরণ করবে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
