খাগড়াছড়ির গামারিঢালায় পাহাড়ির জমি বেদখল করে সেটলারদের ঘর নির্মাণ

0

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১নং খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের অন্তর্গত গামারিঢালায় বৈরী মিত্র চাকমার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বন্দোবস্তিকৃত জমি বেদখল করে ঘর নির্মাণ করেছে সেটলার মো. মঈনুল ইসলাম গংরা। এ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে মো. মঈনুল ইসলাম (পিতা: মো. মোজাম্মেল হক), মো. সামাদ (পিতা: শমশের আলী বিশ্বাস) ও সাহেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ শেখ) ও তাদের সহযোগীরা জমিটি বেদখলের উদ্দেশ্যে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। তারা সবাই গামারিঢালা মৌজার নতুন পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২৯/৭/২০২৫ খ্রি: তারিখে বাদী বৈরী মিত্র চাকমা জমিটি বেদখলের আশঙ্কায় উক্ত তিন জনের (মো. মঈনুল ইসলাম, মো. সামাদ ও সাহেরা বেগম) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফের আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর প্রয়োজনীয় তদন্তের পর গত ২৩/০৪/২০২৬ খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান মারুফ মামলাটি নিষ্পত্তি করে উক্ত জমিটি ভোগদখলকারী ও বাদী বৈরী মিত্র চাকমার পক্ষে আদেশ প্রদান করেন।

মামলার আদেশ ও তদন্তের কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জমিটির বর্তমান ভোগদখলকারী ও বাদী বৈরী মিত্র চাকমার পিতা প্যারী মোহন চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার ২৫৬ নং গামারীঢালা মৌজায় আর.এস খতিয়ান নং- ০৫ এর অধীনে বিভিন্ন দাগে সর্বমোট ৭.৯৫ একর ভূমিতে ভোগদখলে বিদ্যমান ছিলেন। ২০০৩ সালে প্যারী মোহন চাকমার মৃত্যুর পর ওয়ারিশগণ উক্ত ভূমিতে এজমালি দখলে বিদ্যমান আছেন। বাদীর পক্ষ জমি পরিদর্শনকালে নালিশী ভূমি অপরিষ্কার দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৬ জুলাই ২০২৫ সকাল ১০টার সময় বাদী নালিশী ভূমিতে শ্রমিক নিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তখন প্রতিপক্ষগণ দলবলসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক বাধা দিয়ে বিদ্যমান বাঁশের বেড়া ভেঙে ফেলেন এবং বাদীসহ উপস্থিত শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমতাবস্থায়, প্রতিপক্ষ কর্তৃক নালিশী ভূমি বেদখল হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বাদী তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় প্রসিডিং গ্রহণের নিবেদন করেন।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, খাগড়াছড়ি, তাঁর দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “সরেজমিন তদন্তে দেখা যায় যে, বাদীগণের রেকর্ডভুক্ত নালিশী ভূমিতে বাদীগণই দখল অবস্থায় আছেন।”

মামলার আদেশে বলা হয়, “মামলার নথি, দরখাস্তকারীর আরজি, প্রতিপক্ষের জবাব, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, খাগড়াছড়ি এর প্রতিবেদন, পক্ষদ্বয়ের সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিজ্ঞ কৌঁসুলীগণের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, নালিশী ভূমিতে দরখাস্তকারী তার নিরঙ্কুশ ভোগ দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

“অতএব আদেশ হয় যে, যেহেতু নালিশী ভূমিতে দরখাস্তকারী তার নিরঙ্কুশ ভোগ দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন সেহেতু, তাকে নালিশী ভূমিতে দখলদার সাব্যস্ত করা হলো এবং উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নালিশী ভূমির স্বত্ব ও দখল সংক্রান্ত ভিন্নরূপ আদেশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষগণকে নালিশী ভূমিতে প্রবেশ বারিত করা হলো। মামলা নিষ্পত্তি।”

উল্লেখ্য, জমির মালিক ও বাদী বৈরী মিত্র চাকমা বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদরের অপর্ণা চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করেন। কাপ্তাই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত প্রজা হিসেবে তাঁর পিতা প্যারী মোহন চাকমা উক্ত জমি বন্দোবস্তি পেয়েছিলেন। ওয়ারিশসূত্রে তিনি উক্ত জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। 

দীর্ঘদিন ধরে সেটলাররা উক্ত জমিটি বেদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More