থানচিতে বাঙালি ফেরিওয়ালা কর্তৃক ম্রো শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ!

0
 ম্রো শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযুক্ত মো. রাসেল। সংগৃহিত ছবি


থানচি (বান্দরবান), সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলার ৩নং থানচি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দনরই পাড়ায় এক বাঙালি ফেরিওয়ালা কর্তৃক ১২ বছর বয়সী এক ম্রো শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. রাসেল (৩২)। তার আসল বাড়ি যশোর জেলায় বলে জানা যায়। বর্তমানে সে বান্দরবান সদরে আর্মি পাড়া নামক এলাকায় বসবাস করে ভাঙারি ব্যবসা করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে মো. রাসেল দনরই পাড়ায় প্রবেশ করে এবং পুরনো ভাঙা জিনিসপত্র কেনার জন্য এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্য করে হাঁকডাক দিতে থাকে। পরে গ্রামের লোকজন জানায় যে, এখানে কোনো ভাঙা জিনিস পাওয়া যাবে না এবং তাকে পাশের ‘খুমী পাড়ায়’ যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাস্তা দেখিয়ে দেয়। ঐ পথে দুটি রাস্তা ছিল, যার একটি খুমী পাড়ায় যাওয়ার রাস্তা এবং অপরটি গ্রামের পানি আনার আসা-যাওয়া রাস্তা।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত মো. রাসেল খুমী পাড়ার রাস্তার দিকে না গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পানি তোলার নির্জন স্থানে চলে যায়। সেখানে পাড়ার ভুক্তভোগী ম্রো শিশুটি একা পানি তুলছিল। পরে মো. রাসেল তার কাছে গিয়ে পিপাসা লেগেছে বলে পানি খুঁজতে থাকে। শিশুটি সহজ সরল মনে পানি এগিয়ে দিলে মো. রাসেল পানিতে ময়লা আছে অজুহাত দেখিয়ে নতুন করে পানি তুলে দিতে বলে। ভুক্তভোগী শিশুটি পুনরায় পানি তোলার জন্য সামনের দিকে নত হলে রাসেল অতর্কিতভাবে শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় সে জোরপূর্বক শিশুটির সংবেদনশীল ও গোপন অঙ্গে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

পরে শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার, কান্নাকাটি করতে করতে কোনমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দৌঁড়ে গ্রামে পালিয়ে আসে এবং পাড়াবাসীদের কাছে ঘটনাটি জানায়।

এই ঘটনার খবর শোনার পর গ্রামের এক যুবক তৎক্ষণাৎ দৌঁড়ে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টাকারী মো. রাসেলকে ধরে আটক করে রাখে। পরে বিকালের দিকে গ্রামের মানুষ জুমের কাজ থেকে ফিরলে সঠিক ও আইনি বিচারের আশায় সেখানকার স্থানীয় ৩৬২নং মৌজার হেডম্যান রেংচিন ম্রোকে জানানো হয়। তিনি উক্ত ধর্ষণকারীকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন এবং অভিযুক্তকে নেওয়া হলে, একা তার পক্ষে এই বিচার করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

পরে তিনি থানচি বাজারের জসিম নামের এক বাঙালি সওদাগরকে ডাকেন। এরপর ঐ বাঙালি সওদাগর থানায় ফোন দেওয়ার কথা বলে ডিজিএফআই ও এনএসআই’র দুইজন কর্মকর্তাকে কল দিয়ে ডেকে আনেন। 

এরপর উক্ত দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিজিএফআই’র রাজদুল ও এনএসআই’র মন্নান) মাত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা দিয়ে ঘটনাটি আপোষে সমাধান করার নির্দেশ দেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুসারে ধর্ষণচেষ্টাকারী মো. রাসেলকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু আইনের রক্ষক আর সমাজের মুরুব্বি মিলে ধর্ষণের চেষ্টার মতো ঘটনায় জড়িত একজন অপরাধীকে আইনের হাতে সোপর্দ না করায় স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More