পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানি আগ্রাসন দিবসে নান্যাচরে দুই স্থানে আলোচনা সভা

0

নান্যাচর প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

‘ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানি আগ্রাসনের ৭৯ বছর’ উপলক্ষে রাঙামাটির নান্যাচর উপজেলার দুই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টার সময় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নান্যাচর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়ন ও ১নং সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

“নব্য পাক হানাদারদের দৌরাত্ম্য রোধে ছাত্র জনতা এক হোন, লড়াই সংগ্রাম জোরদার করুন” এই শ্লোগানে বুড়িঘাট ইউনিয়নে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নান্যাচর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য নিপন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফের নান্যচর ইউনিটের সমন্বয়ক সুকীর্তি ও সংগঠক জয়েন চাকমা।

অপরদিকে, সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে “পার্বত্য চট্টগ্রামে ধারাবাহিক আক্রমণ ও অধিকারহরণ : পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ শাসনামলে পাহাড়ি জনগণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ছাত্র-যুব সমাজের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নান্যাচর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রিয়তন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক সরল চাকমা ও ভূমিবল চাকমা।

উভয় স্থানে আয়োজিত আলোচনা সভায় শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে লড়াই সংগ্রামে আত্ববলিদানকারী সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা ১৯৪৭ সাল থেকে আজকের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিশদ আলোচনা তুলে ধরে বলেন, আজকের ২০ আগস্ট দিনটি সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের জন্য একটি অভিশপ্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বেলুচ রেজিমেন্ট সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ভারতীয় পতাকা এবং বার্মার পতাকা নামিয়ে দিয়ে পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করে। তারা প্রথমে রাঙামাটি দখলে নেয়। এরপরে বান্দরবানসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের আগ্রাসনের শিকার হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে পৃথক দু’টি রাষ্ট্র গঠনের মাত্র ৫ দিনের মাথায় বেলুচ রেজিমেন্টের এই আগ্রাসন পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর নেমে আসে নিপীড়ন-উচ্ছেদের এক নির্মম বাস্তবতা।

আগ্রাসনের পরবর্তী ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার নির্মি কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে। এ বাঁধের ফলে পাহাড়িদের ৫৪ হাজার একর জমি পানির নীচে তলিয়ে যায়, নিজ জায়গা-জমি, বসতভিটা হারিয়ে লক্ষাধিক পাহাড়িকে উচ্ছেদ হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে শরণার্থী হতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের ওপর নেমে আসতে থাকে একের পর এক দুর্দশা।

১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের ফলে পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর আগ্রাসন থেমে যায়নি। উপরন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী পাহাড়িদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের চেয়েও ভয়াবহ নীতি গ্রহণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সামরিক শাসনের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালানো হয়। জাতিসত্তাগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে সংবিধানে চাপিয়ে দেওয়া হয় বাঙালি জাতীয়তাা। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সরকারের পালাবদল হলেও পাহাড়িদের বিরুদ্ধে দমননীতির কোন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানেও একই নীতিতে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন জারি রাখা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে ক্রান্তিকাল চলছে তার থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্র-যুব সমাজকে আন্দোলনে সামিল হতে হবে। অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য বক্তারা ছাত্র-যুব সমাজকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

পৃথক দুই স্থানে আয়োজিত আলোচনা সভায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, ছাত্র-যুবকসহ প্র্রায় চার শতাধিক লোকজন অংশগ্রহন করেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More