বন্দুকভাঙ্গায় গ্রামবাসীদেরকে রাস্তা প্রশস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সন্তু গ্রুপ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বি-টিম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে ভুলোমোন থেকে চেবেদা কিজিং পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটির দুই পাশ কেটে প্রশস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
গতকাল ২৪ জুলাই সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র কমান্ডার নবজ্যোতি চাকমা ওরফে ফরেন ত্রিপুরাছড়াবাসীদেরকে ফোন করে এই নির্দেশ দেয়।
উক্ত নির্দেশ অমান্য করা হলে তাদেরকে রাঙামাটি সদর বাজারে যেতে দেয়া হবে না বলে সে হুমকি দেয়।
ত্রিপুরাছড়া গ্রামের এক মুরুব্বী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএইচটি নিউজকে বলেন, ‘ফরেন বাবু বলেছে আমাদেরকে অবশ্যই রাস্তাটা কেটে দিতে হবে। না হলে নাকি আমাদেরকে রাঙ্গামাটির বনরূপা বাজারে যেতে দেয়া হবে না।’
গ্রামবাসীরা এখন খুবই ভয় ও আতঙ্কে আছেন বলে তিনি জানান।
ত্রিপুরাছড়া গ্রামের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এখন ধান চাষের ও ফলদ বাগানে কাজ করার ভরপুর মৌসুম। চাষ ও মাছ ধরা ছাড়াও গ্রামের প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পড়াশোনার কাজে ব্যস্ত থাকেন। কাজেই অন্যের সুবিধার জন্য রাস্তা কেটে দেয়ার সময় তাদের নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রিপুরাছড়ার ভুলোমোন থেকে যমচুক রাস্তা অর্থাৎ চেবেদা কিজিং পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক দেড় মাইল। তবে এলাকাটি পাহাড়ি হওয়ায় পায়ে হেঁটে এই রাস্তা অতিক্রম করতে পৌনে এক ঘন্টার মতো সময় লাগে।
স্থানীয়দের মতে রাস্তাটি কাঁচা হলেও বেশ বড়। কিন্তু তারপরও কেন সন্তু গ্রুপ এটি আরও প্রশস্ত করতে চাইছে তা এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। তাছাড়া জনগণ জেএসএস সন্তু গ্রুপের চাকর বা দাস নয় যে, তাদেরকে দিয়ে জোর করে রাস্তার কাজ করিয়ে নেবে।
এ কারণে ফরেন চাকমার উক্ত ফ্যাসিবাদী নির্দেশের ফলে ত্রিপুরাছড়া গ্রামবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সন্তু গ্রুপের সমালোচনা করে বলেন, দুনিয়া কতদূর অগ্রসর হয়েছে, আর এরা এখনো মান্ধাতা আমলে পড়ে আছে। সন্তু গ্রুপের নেতাকর্মীদের আসলে নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা নেই। জনগণকে তারা মানুষ, সহনাগরিক বলে মনে করে না। তাদেরকে মান-সম্মান দিতে জানে না।
তাদের শীর্ষ নেতা যেমন ফ্যাসিস্ট, সন্তু গ্রুপের কর্মীরাও এক একজন খুদে ফ্যাসিস্ট। তারা সাধারণ জনগণের মাথায় ছড়ি ঘোরায় ও তাদের কথায় ওঠবস করায়। এদের কাছ থেকে জাতি ও জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফরেন চাকমা (৪২) দীর্ঘ দিন ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখায় কাজ করছে। তার বাড়ি বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের খারিক্ষ্যং-এ। তবে বর্তমানে সে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি জেলা সদরের চক্রপাড়ায় থাকে। তার বাবা মৃত বিনোদ বিহারী চাকমা ওরফে থুদো আদা এক সময় জেএসএসের সাথে জড়িত ছিলেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
