বর্মাছড়িতে সেনা অভিযানে বৃষ কুমার চাকমাকে মেজর-এর কড়া নির্দেশ: নাতি মারা গেলেও তাকে ঔষুধ-পানি খাওয়ানো যাবে না

0

বর্মাছড়ি (লক্ষীছড়ি) প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে সেনা অভিযানকালে বৈদ্যপাড়ার বাসিন্দা বৃষ কুমার চাকমাকে সেনা কমান্ডার জনৈক মেজর কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, “নাতি মারা গেলেও তাকে ঔষধ-পানি খাওয়ানো যাবে না। তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।”

ফলে তিনি বাধ্য হয়ে অসুস্থ নাতিকে বাড়িতে একা রেখে সেনাদের সাথে যেতে বাধ্য হন বলে ভুক্তভোগী বৃষ কুমার চাকমা জানান।

শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৭টার দিকে লক্ষীছড়ি সেনা জোন থেকে একদল সেনা সদস্য তিন জন ঠ্যাঙাড়ে সদস্যকে (উৎপল চাকমা, মিনটু চাকমা ও আরেকজন অপরিচিত) সাথে নিয়ে বর্মাছড়ি ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়ায় বৃষ কুমার চাকমার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তিনি অসুস্থ নাতিকে নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা কাজে গিয়েছিলেন।

সেনা-ঠ্যাঙাড়েরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে ইউপিডিএফ সদস্যদের সম্পর্কে নানা জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের ঘর-বাড়ির খোঁজ করে। এ সময় তাকে লাঠি ও চড় দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়। সেনা সদস্যরা তাঁর বাড়ির আশে-পাশের ঝোপ-ঝাড়েও তল্লাশি চালায়। তবে অবৈধ কোন কিছুই তারা উদ্ধার করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী বৃষ কুমার চাকমা বলেন, “বাড়িতে আমার নাতি অসুস্থ ছিল। ২-৩ দিন ধরে ভাত খেতে পারছিল না। বাড়ির সবাই কাজে যাওয়ায় আমি আর অসুস্থ নাতি দুজনে বাড়িতে ছিলাম। আমি অসুস্থ নাতিকে গরম পানি খাওয়ানোর জন্য আগুন জ্বালোনোর অনুমতি চাইলে একজন মেজর (সেনা কমান্ডার) তাতে বাধা দিয়ে বলেন, ‘নাতি মারা গেলেও আগুন জ্বালানো ও তাকে ঔষধ-পানি খাওয়ানো যাবে না। তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।’

“এ অবস্থায় সেনারা আমাকে তাদের সাথে নিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অসুস্থ নাতিকে বাড়িতে একা রেখে যেতে হয়” বলেন তিনি।”

সেনা-ঠ্যাঙাড়েরা তাকে মুক্তাছড়িতে নিয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “এরপর তারা আমাকে মুক্তাছড়ির বলিপাড়ায় নিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখে। চারদিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহারায় ছিল। সেখানে উৎপল (ঠ্যাঙাড়ে) ইউপিডিএফ সদস্যদের বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি জানিনা বলে উত্তর দিই। এমতাবস্থায় এলাকার নারীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। তারা সেনাবাহিনীর সাথে তর্কাতর্কি করে আমাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। না হলে সেনারা আমাকে ক্যাম্পে নিয়ে যেতো।”

বৃষ কুমার চাকমা একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিন নানা কাজ করেই তিনি সংসার চালান। একজন সাধারণ মানুষের সাথে সেনাবাহিনীর এমন অমানবিক আচরণে এলাকার জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এমন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More