মাটিরাঙ্গায় তবলছড়ি গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন

0

মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি, সিএচইটি নিউজ
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

‎খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় ১৯৮১ সালের ২৭-২৮ মে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সেটলার বাঙালি কর্তৃক পাহাড়িদের ওপর সংঘটিত গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে মাটিরাঙ্গায় প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)।

‎আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৬:৩০ টার সময় এ প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, যুবক ও সাধারণ জনগণসহ তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনা-সেটলার কর্তৃক সংঘটিত ডজনের অধিক হত্যাকাণ্ডের বিচার কর” এই দাবি সম্বলিত শ্লোগানে এবং “পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছাত্র-যুব-জনতা ঐক্যবদ্ধ হোন, লড়াই জোরদার করুন” এই আহ্বানে আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি রনি ত্রিপুরা সভাপতিত্বে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাবু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফের মাটিরাঙ্গা ইউনিটের সংগঠক সুইমং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক স্বপন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য রিকেন চাকমা।

‎প্রদীপ প্রজ্বলনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বক্তারা বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী এলাকার পাহাড়ি জনগণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ১৯৮১ সালে ২৭-২৮ মে তবলছড়ি এলাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সেটলার বাঙালিরা মিলে পাহাড়িদের ওপর বর্বর গণহত্যা চালায়। সে ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন পাহাড়ি নিহত, ৫৮ জন আহত ও ১৬ জন নিখোঁজ হন। এছাড়াও আরো ১৮,০০০ জন পাহাড়ি নিজ এলাকা, জায়গা-জমি, বসতভিটা ছেড়ে ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে পাহাড়িদের জায়গা-জমি, বসতভিটা সেটলার বাঙালিরা বেদখল করে নেয়। আজ দীর্ঘ ৪৫ বছরেও এখনো কোন সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করেনি। শুধু এ ঘটনা নয় পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো ডজনের অধিক গণহত্যা ও অসংখ্য সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনারও কোন বিচার হয়নি।   

‎বক্তারা অবিলম্বে তবলছড়ি গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশপূর্বক সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহারপূর্বক সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া, সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নিয়ে সমতলে পুনর্বাসন করা এবং পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবি পুর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানান।




This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More