মানিকছড়িতে গৃহবধু হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

0


মানিকছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

‎“পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত কর” এই দাবি সম্বলিত শ্লোগানে টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধরাটি গ্রামে গারোদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ পরিকল্পনা, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বড়বিল এলাকায় এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউপিডিএফ সংগঠক প্রদীপ চাকমাকে র‍্যাব কর্তৃক আটকের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তিন সংগঠন।

‎আজ রবিবার (১৫ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) ও নারী আত্মরক্ষা কমিটির মানিকছড়ি উপজেলা শাখাসমূহের যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।  


বিক্ষোভ মিছিলটি মানিকছড়ি ধর্মঘর এলাকার খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক থেকে শুরু হয়ে সিএন্ডবি মোড় ঘুরে পুনরায় ধর্মঘর এলাকায় এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আনু মারমা এবং সঞ্চালনা করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মানিকছড়ি উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সুমনা মারমা। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অংহ্লাচিং মারমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য রিকেন চাকমা।


বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ইউপিডিএফ সংগঠক প্রদীপ চাকমাকে র‍্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকরা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

‎বক্তারা অবিলম্বে প্রদীপ চাকমার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।


‎টাঙ্গাইলের মধুপুরের ধরাটি এলাকায় গারো সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায় গত ৯ মার্চ বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থার লোকজন সশস্ত্র আনসারসহ এক গারো পরিবারের ওপর চড়াও হন। তারা ওই পরিবারের ঘরের ছাউনি ও খুঁটি ভেঙে ফেলেন। পরিবারের সদস্যদের গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখান। বাড়ির গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় পরিবারের গৃহকত্রী বাধা দিতে গেলে আনসার সদস্যরা তার কাপড় ধরে টানাটানি করেন। এক আনসার তাঁকে গুলি করার জন্য শটগান তাক করেন। অন্যরা সংযত হওয়ার ইঙ্গিত দিলে তিনি গুলি করা থেকে বিরত থাকেন। এ সময় বাচ্চাসহ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

বক্তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান।


বক্তারা আরও বলেন, গত ১০ মার্চ মানিকছড়ি উপজেলার বড়বিল এলাকায় রান্নাঘর থেকে রাম্রা মারমা (৪১) নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়নি। তারা অবিলম্বে এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তারা বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More