রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে অভিযান : প্রশাসন-সেটলারদের পাল্টা-পাল্টি হামলায় ইউএনও, ওসিসহ আহত ১১

0

গুলি বর্ষণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে


রামগড় (খাগড়াছড়ি), সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলাকালে প্রশাসন ও সেটলারদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)-সহ উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে রামগড়ের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির, সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন, রামগড় উপজেলা অফিসের গাড়ি চালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারি জয়নাল আবেদীন। আর আহত স্থানীয় চার যুবক হলেন- মো. আজাদ, সুমন ত্রিপুরা, নূর হোসেন ও আবুল হাশেম। এদের মধ্যে সুমন ত্রিপুরা বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে পূর্ব বলিপাড়ার ৫-৬ টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবরে অভিযানে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান টের পেয়ে বালু তোলার পাম্প সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারীরা সেচ পাম্প ও সরবরাহ পাইপ কেটে দিলে বালু কারবারিদের উস্কানীতে স্থানীয়রা ভ্রাম্যমান আদালতের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোঁড়া হলে ৩ জন বুলেটবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তবে স্থানীয় সেটলাররা পুলিশ সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল।

অভিযান পরিচালনার সময় ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার পায়ে আঘাত লাগে। এ ছাড়া রামগড় থানার ওসি, চারজন আনসার সদস্য ও মোবাইল কোর্টে সহায়তাকারী পাঁচ কর্মচারীসহ মোট ১১ জন আহত হন। হামলাকারীরা সরকারি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করে বলে তিনি জানান।

ইউএনও আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযান শেষে প্রশাসনের দল ফিরে আসার সময় আবারও হামলার শিকার হয়। তবে বিনা কারণে গুলি চালানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

অপরদিকে ওমর ফারুক নামে একজন অভিযোগ করেন, ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের তিনটি সেচ মেশিন ভেঙে ফেলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিবাদ জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে দুষ্কৃতকারীরা মোবাইল কোর্টের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More