কাউখালী-রাঙ্গুনীয়া সীমান্তের চৌচালা বিল এলাকায় আবারও সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান

0

সেনা-ডিজিএফআইয়ের সহযোগিতার অভিযোগ

প্রতীকী ছবি


কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাঙামাটির কাউখালী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের ইসলামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চৌচালা বিল এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের ২২-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সেনা-ডিজিএফআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) রাতে তারা সেখানে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিপ্লব ও সূর্য্য নামে দুজন সশস্ত্র দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার সময় সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের দেবতাছড়ি গ্রাম থেকে পাঁচটি সিএনজি যোগে ঘাগড়া ইউনিয়নের বগাপাড়া চন্দ্র বংশ শিশু সদন হয়ে ধুল্লেছড়ি গ্রামে প্রবেশ করে।

সেখান থেকে রাত ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১৩ নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের চৌচলা বিল গ্রামে রাউজানে খাদ্য অধিদপ্তরে চাকুরিরত সৌরভ চাকমার আম বাগানে গিয়ে অবস্থান নেয়।

আজ বুধবার (৬ মে) বিকাল ৫টার দিকে সন্ত্রাসী দলটি ধর্মীয় অবমাননা করে অস্ত্রসহ জুতা পায়ে চৌচলা বিল ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান নিয়ে সেখানে রাতের খাবার খেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বর্তমানে সন্ত্রাসী দলটি চৌচলা বিল গ্রামের জনৈক ব্যক্তির আম বাগানে অবস্থান করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চৌচলাবিল গ্রামে অবস্থানকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সন্ত্রাসীদের সেখানে আসার পিছনে সেনা-ডিজিএফআই সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে বলে স্থানীয় এক মুরুব্বী মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে, বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেএসএস সন্ত্রাসীদের আসার পথকে সুগম করার জন্য গত কয়েকদিন আগে থেকেই কাউখালি সদর ও ঘাগড়ায় দায়িত্বরত  ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা ঘাগড়া ইউনিয়নের যৌথবাগান, চেলাছড়া, নোয়াআদাম, নিচপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফিরা করে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে।

এরপর গত ৪ মে ফুরমোন আর্মি ক্যাম্প থেকে ২২ জনের একটি সেনা দল ঘাগড়া ইউনিয়নের বাদলছড়ি হয়ে চেলাছড়া সরকারি আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক রাত অবস্থান করে গতকাল সকাল ১১টার দিকে ক্যাম্পে ফিরে গেছে।

এছাড়া সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা দিতে কাউখালির ঘাগড়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।

জানা গেছে, ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ন’ভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসের বিঘ্ন ঘটিয়ে দুই দিন ধরে সেনাবাহিনীর একটি দল অবস্থান করছে এবং ঘাগড়া ইউনিয়নের মুবাছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস ও খেলাধুলা মাঠ দখল করে সেনারা অবস্থান করছে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঘাগড়া সাব-জোন ও রাঙামাটি সদর জোন থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘাগড়া ইউনিয়নের হারাঙ্গি পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান করবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা দেওয়া। এছাড়া সেনারা কাউখালীতে ইউপিডিএফের সাংগঠনিক এলাকায় সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র দলটিকে প্রবেশ করিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলেও সূত্রটি আভাষ দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার একাধিক মুরুব্বী এ প্রতিবেদককে বলেন, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে সেনাবাহিনী যদি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় তাহলে জনগণ তা কোনভাবেই মেনে নেবে না। তারা সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর (২০২৫) ৩১ অক্টোবর থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সন্তু গ্রুপের একদল সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চৌচালা বিলসহ আশে-পাশের কয়েকটি স্থানে অবস্থান ও বিচরণ করে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। সে সময় কাউখালী এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More