গুইমারায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সেনা-সন্তু চক্রসহ জাতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের কুশপুত্তলিকা পোড়ালো পিসিপি

0


গুইমারা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ির গুইমারায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সেনা-সন্তু চক্রসহ জাতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী, লেজুড়, দুর্বৃত্তদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গুইমারা উপজেলা শাখা।

“সেনা-সন্তু চক্রের জাতি ধ্বংসের নীলনক্সার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠো” আহ্বানে রাঙামাটির সাজেকে মাজলঙ নোয়াপাড়া এলাকায় জেএসএস সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী জখম হওয়ার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের মদদদাতা দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে সংগঠনটি।

প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ২:০০টায় গুইমারা সদর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে তারা জাতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের কুশপুত্তলিকা বহন করেন। 

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের গুইমারা জেলা শাখার সভাপতি নিকেল চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রাঙামাটির সাজেকে মাজলঙ নোয়াপাড়া এলাকায় গতকাল সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী কস্মিতা ত্রিপুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। আর এই সন্ত্রাসীদের প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে যাচ্ছে বাঘাইহাট সেনাজনের প্রমোশনলোভী ও দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা কর্মকর্তারা। তাদের সহায়তা নিয়ে সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাজেকে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও বলেন, সন্তু লারমা ও তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি জনগণের ঐক্যের আহ্বানকে নাখোশ করে জনবিরোধী সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা একের পর এক জাতি ভাইয়ের গুলি করে হত্যা করছে। তাদের এমন জাতি ধ্বংসের কর্মকাণ্ড জুম্ম জনগণ আর সহ্য করবে না।

গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর রামেসু বাজারে সেনা-সেটলার হামলায় আখ্র-আথুইপ্রু ও থৈইচিং-কে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, সন্তু লারমার জেএসএস সেই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং নিজেদের গদি রক্ষার্থে সেনাবাহিনীর বক্তব্যের সুরে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা শহীদদের রক্তকে অস্বীকার করার সামিল। যারা এ ধরনের জাত বিরোধী দালালী করবে তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ার করে দেন।

তারা অবিলম্বে সেনা-সন্তু চক্রের জাতি ধ্বংসের নীলনক্সার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং সন্ত্রাসীদের মদদদাতা দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।

বক্তব্য প্রদান শেষে সেনা ক্রীড়নক জাতি ধ্বংসের মূল হোতা সন্তু লারমা, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমোশনলোভী সেনাচক্র, ক্ষমতাসীনদের পদলেহী লেজুড় ও ভাড়াখাটা গুজব রটনাকারী দুর্বৃত্তদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয় এবং ছাত্র-জনতা ক্ষোভের সাথে কুশপুত্তলিকাগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন।





This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More