চট্টগ্রামে পিসিপি ও এইচডব্লিউএফ’র ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

0


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ঢাকায় ৭ বছরের শিশু রামিসা ও পাহাড়ে চিংমা খিয়াং এবং চট্টগ্রাম বাকলিয়ায় ৪ বছরের শিশু-সহ সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), চবি শাখা ও মহানগর শাখা।  

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ঘুরে এসে আবারও চেরাগী মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে পিসিপির চট্টগ্রাম মহানগর চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অংহ্লাচিং মারমা সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চাকমা সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা ও পিসিপির চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা।

রিতা চাকমা বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে কণ্যা শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছে না। ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করা হয় কিন্তু বিচারের আওতায় না এনে সরাসরি জেলে প্রেরণ করা হয়। ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ার ফলে আইনের ফাঁক-ফোকড়ে জামিনে মুক্ত হয়ে ধর্ষক আরও উৎসাহিত বোধ করে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধর্ষককে দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি, হুমকি চলে সেনাদের ইশারায়। বান্দরবানে চিংমা খিয়াংকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তারই সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধ ও রামিসা ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।

সুদর্শন চাকমা বলেন, ‎পাহাড়ে পরীক্ষামুলকভাবে ধর্ষণ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হয়রানি, মিথ্যা মামলা দিয়ে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়; দুর্ভাগ্যক্রমে যা সমতলেও ঘটছে।

তিনি বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়েছে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তার বদলে বরং তা বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। ধর্ষণের মত জঘণ্য ঘটনার বিচার করতে না পারা এবং ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না থাকাটা সরকারের কাঠামোগত দূর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। যার ফলে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটছে এবং ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে অংহ্লাচিং মার্মা বলেন, সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণের পর হত্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর দায় বর্তমান সরকারের ওপর বর্তায়। ধর্ষকদের যথাযথ বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার এই ধরনের ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করে যাচ্ছে। ধর্ষণকারীকে গ্ৰেফতার করা হলেও শাস্তি কার্যকর করতে আইনী প্রক্রিয়ায় গাফিলতি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই দেশের আইনের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে। রামিসার বাবা তার মেয়ে বিচার পর্যন্ত চায় নাই। কারণ তিনি জানেন সরকার সুষ্ঠু বিচার করতে পারবে না। পাহাড়ের ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন হওয়ায় ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলে সন্ত্রাসী ত্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাহাড়ের মানুষ বিচার চাইতে ভয় পায়। মামলা নিতে প্রশাসনের নানা হুমকির মুখে পড়তে হয়। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে গুইমারার আখ্রই, আথুইপ্রু, থৈইচিং মারমাদের।

তিনি রামিসার ধর্ষণের ঘটনা-সহ পাহাড় এবং সমতলে সকল ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষণকারীকে জনসম্মুখে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানান। একইসাথে তিনি পাহাড়ের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে নেওয়া-সহ সারাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More