বন-প্রাণী, পাহাড় ও প্রকৃতি বাঁচান, নিজ আবাসস্থল নিরাপদ বাসযোগ্য করুন : পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রকৃতি সংরক্ষণ কমিটি

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বন-প্রাণী, পাহাড় ও প্রকৃতিকে বাঁচানোর এবং নিজ আবাসস্থল নিরাপদ বাসযোগ্য করার আহ্বান জানিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রকৃতি সংরক্ষণ কমিটি’।

‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে প্রচারিত একটি লিফলেটে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ২৫ জুলাই প্রকাশ করা লিফলেটে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের প্রতি ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো:  ১. পাহাড় কাটা, বন উজার ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে!; ২. পার্বত্য চট্টগ্রামে বন, পাহাড়, নদী ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কর!; ৩. পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন, বন উজাড় ও পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন!; ৪. প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় পাহাড়িদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে!; ৫. স্থানীয় অধিবাসীদের ভূমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ ও জবরদস্তির মাধ্যমে পর্যটন, পাঁচ তারকা হোটেল এবং সড়ক নির্মাণ বন্ধ করে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করতে হবে!

* নীচে লিফলেটের পুরো লেখাটি হুবহু দেওয়া হলো:
——————————————————————–

বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে আহ্বান:

বন-প্রাণী, পাহাড় ও প্রকৃতি বাঁচান, নিজ আবাসস্থল নিরাপদ বাসযোগ্য করুন!

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,

প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত হয় ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’। মানবজাতিকে প্রকৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে  উদ্বুদ্ধ করাই হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের অন্যত্র দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হলেও বাংলাদেশে তা দেখা যায় না। সরকারিভাবেও এ ব্যাপারে তেমন কোন প্রচার ও উদ্যোগ নেই বললে চলে।

খোঁজ নিলে দেখা যাবে, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে মূল হোতারা হচ্ছেন দেশের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা। তাদের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যত্র পলিথিন-প্লাস্টিকের বিস্তার ঘটছে। সরকারের উচ্চ পদস্থ মন্ত্রী, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরাদের অতিরিক্ত মুনাফা লুটা ও ব্যক্তিগত ভোগ বিলাস আনন্দ ফূর্তির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও অস্তিত্ব দিন দিন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

সাজেকের মাজলঙে ১৮ জুলাই বিজিবি’র ট্রাকের ধাক্কায় এক স্কুল শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রাণনাশের মধ্য দিয়ে এর ভয়াবহতা আবারও উন্মোচিত হয়েছে। কিন্তু বড় বেদনাদায়ক ও ন্যাক্কারজনক ব্যাপার হচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ‘প্রথম আলো’ সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যম ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ বলে একযোগে প্রচার চালিয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সংস্থার সাথে মিডিয়ার যোগসাজশ সবার সম্মুখে স্পষ্ট হয়েছে।

সুদূর অতীতে ‘সাজেক রিজার্ভ ফরেস্ট’ ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে এক প্রবাদপ্রতীম বনাঞ্চল। বাঘ, ভালুকসহ বিরল প্রজাতির পশু-পাখির অবাধ বিচরণ নিয়ে লোকমুখে নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। এখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার গাড়ির ধাক্কায় প্রাণহানি কোন স্বাভাবিক কিংবা সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। বন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষার নীতি অনুসরণ না করে ব্যবসায়িক লাভ ও তথাকথিত নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বেপরোয়া সামরিক স্থাপনা, সীমান্ত সড়ক, পর্যটনকেন্দ্রীক রিসোর্ট, রেঁস্তোরা ও নানা স্থাপনা নির্মাণের পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে সাজেকসহ পার্বত্যবাসীকে।

কাপ্তাই বাঁধের পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন-জঙ্গলে গণ্ডারসহ বিরল প্রজাতির পশু-পাখির বিচরণ ছিল বলে জানা যায়। অথচ বর্তমানে পশু-পাখির ডাকও আগের মত শুনতে পাওয়া যায় না।

আশির দশকে চার লক্ষাধিক সেটলার পুনর্বাসন, সেনা ক্যাম্প নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, তার সাথে পাল্লা দিয়ে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, প্রতিদিনই নির্বিচারে বন-জঙ্গল ধ্বংস, পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন, আকাশমনি, ইউক্লিপটাস.. ইত্যাদি বিদেশী প্রজাতির গাছ রোপন, রাবারবাগান, সেগুনবাগান, কাসাভা চাষের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের দেশীয় ঔষুধীগুণসম্পন্ন মূল্যবান গাছ-গাছড়া বিলুপ্ত হতে চলেছে। অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো দেশেও বন্যায় প্রাণহানি পরিবেশবাদীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আসলে পৃথিবী নামক গ্রহটি এক গভীর পরিবেশ সংকটের আবর্তে পতিত হয়েছে। পৃথিবীর স্থলভাগ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে গুরুতরভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছরই উষ্ণতা বেড়ে চলেছে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ আশঙ্কাজনকভাবে গলে যাচ্ছে, এতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো।

বাংলাদেশ পরিবেশগত সংকটের মাত্রা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দেশের বনভূমির পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অপ্রতুল। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, সিলেট অঞ্চলে জলাভূমি ভরাট, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের চারপাশে অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা, ঢাকার আশপাশে নদী দখল ও দূষণ-সবই দেশের বাস্তুতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নদীগুলো মৃতপ্রায়, নদীভাঙনে প্রতি বছর হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে খাদ্য উৎপাদন ও পানির জোগান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রকৃতি মানে হচ্ছে জীবনের মৌলিক আধার-জল, বায়ু, মাটি, আলো, গাছপালা, প্রাণিকুল। আমরা যেখানেই যাই, যেভাবেই বাঁচি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর না করে আমাদের পক্ষে এক মুহূর্তও টিকে থাকা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক ও উদ্ভিদ উদ্যানে প্লাস্টিক ব্যবহার ও বনভোজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আজ প্লাস্টিক-পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহার, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, নদী-ঝরনা ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য বিনাশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি ভয়াবহ সংকটের মুখে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ভোগ এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই অবক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টোকহোমে জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যা পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে পুরো বিশ্বে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য ২৮ জুলাই তারিখটিকে নির্ধারণ করেই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয় বরং মানবসভ্যতা, জীববৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকৃতি বিনষ্ট করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চল ও আগ্রাসী পুঁজিবাদী বিশ্বে সুস্থ জীবনধারণের জন্য আমাদের প্রয়োজন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যাপক জনসচেতনতা ও কার্যকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা। কাজেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ ও প্রকৃতির বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রকৃতি সংরক্ষণ আর কোন বিকল্প নয়- এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

এক দশমাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক অঞ্চল। এখানকার পাহাড়, বন, নদী-ঝরনা এবং জীববৈচিত্র্য শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়, সমগ্র দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংস, বন উজাড়, পাথর উত্তোলন, অবৈধ দখল এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কমংকাণ্ডের ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ও প্রাণীজ সম্পদ বিলীন হওয়ার পথে। বন ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল কমে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরো তীব্র হয়ে উঠছে। এতে পাহাড়ের মানুষ জন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। অথচ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। তারা জানে কিভাবে পাহাড় ও বনভূমি রক্ষা করতে হয়। বন, পাহাড়, নদী ও ভূমিকে তারা কেবল সম্পদ হিসেবে নয়, জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে। তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, উৎসব, কৃষি ও জীবনযাপন প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই পাহাড়ের প্রকৃতি ধ্বংস মানে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়; এটি পাহাড়িদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ওপরও মারাত্মক আঘাত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভূমি ও প্রকৃতি ধ্বংস হওয়ার নেপথ্যে কারণ কী?

দেশের মোট বনভূমির ৪০ শতাংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক বনভূমি উজার, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি ধ্বংসের পেছনে বনবিভাগ, তার নীতিমালা ও কার্যক্রমের একটা বড় নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি ফসিহউদ্দীন মাহতাব প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘পার্বত্য অঞ্চলের বনজ সম্পদ লুটপাটে জড়িত রয়েছে স্বয়ং বন বিভাগই। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ (জিএফও) এবং ওয়ার্ল্ড রিসোর্স (ডব্লিউআরআই) এক হিসেব অনুযায়ী ২০০২-২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বন উজার হয়েছে। তন্মধ্যে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এ হার ৯ শতাংশের বেশী। বর্তমানে এ হার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা যায়। ১৮৮২-৮৩ সাল নাগাদ সমগ্র পার্বত্য জেলায় প্রায় এক চতুর্থাংশ (২৪%) এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয় এবং সেখানে পাহাড়িদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পাহাড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসতভিটা স্থাপন ও বনজ সম্পদের ব্যবহার স্থানীয়দের জন্য নিষিদ্ধ, এমনকি দা-কুড়াল ইত্যাদি সহ প্রবেশ দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণার ফলে পাহাড়িদের জীবিকার্জনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

পার্বত্যঞ্চলে কিছু সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে যেখানে স্থানীয়দের সীমিত প্রবেশাধিকার থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বনবিভাগের হাতে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃত্রিম বনায়ন ও সেগুন গাছ এখন বিস্তর বেড়ে গিয়েছে। ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্তারা শুধু মুনাফা অর্জন প্রাধান্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সীতা পাহাড়ে মায়ানমার থেকে বীজ এনে সেগুন গাছ রোপন করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সেগুন মনোকালচারের ব্যাপারে ঔপনিবেশিক নীতি অনুসরণ করে। বনবিভাগ কর্তৃক এক চতুর্থাংশ ভূমি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা, লাগামহীন বনজ সম্পদ আহরণ এবং ১৯৬০ সালে প্রতিষ্টিত বন বিভাগের একটি শাখা জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগ কর্তৃক জুমচাষ নিয়ন্ত্রণ করে সেগুন, রাবার প্রভৃতি চাষের প্রসারের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার-শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বনভূমি ধ্বংস ও পাহাড়িদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে পর্যটন, পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ এবং উন্নয়নের নামে ব্যাপক পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাহাড়িদের জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রিয় পার্বত্যবাসী,

সাজেকের মাজলঙে বিজিবি’র গাড়ির ধাক্কায় এক পাহাড়ি শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিছক কোন দুর্ঘটনা ছিল না, এ ঘটনা পাহাড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির অব্যবস্থাপনারই ফল। এটি কাঠামোগত হত্যাকে জায়েজ করার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাণ, প্রকৃতি এবং পাহাড়িদের জীবনযাত্রাকে অনিরাপদ ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়ার একটি নগ্ন দৃষ্টান্ত। এর দায় রাষ্ট্র কখনো এড়াতে পারে না। তাই আসুন, প্রকৃতি ও পাহাড় রক্ষার আন্দোলনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। সচেতন পদক্ষেপ ও আন্দোলনের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও মুক্ত পাহাড় গড়ে তুলি।

বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের দাবি:

১. পাহাড় কাটা, বন উজার ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে!

২. পার্বত্য চট্টগ্রামে বন, পাহাড়, নদী ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কর!

৩. পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন, বন উজাড় ও পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন!

৪. প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় পাহাড়িদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে!

৫. স্থানীয় অধিবাসীদের ভূমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ ও জবরদস্তির মাধ্যমে পর্যটন, পাঁচ তারকা হোটেল এবং সড়ক নির্মাণ বন্ধ করে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করতে হবে!

২৮ জুলাই আমরা সবাই মিলে প্রকৃতি রক্ষায় প্রতিজ্ঞা করি যে, প্রকৃতি আমাদের জীবনের উৎস, আমাদের অক্সিজেন, খাবার ও শান্তির ভিত্তি। প্রকৃতিকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে।

আসুন আজকের দিনে আমাদের এই দায়িত্বগুলো স্মরণ করি:

* প্রকৃতি রক্ষা করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য।

* প্লাস্টিক ও অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য কমিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করি।

* গাছ লাগাই, যারা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে।

* জল ও শক্তির সংরক্ষণে সচেতন হই।

* বন্যপ্রাণীর অধিকার ও বাসস্থান রক্ষা করি।

আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টা একত্রে বৃহত্তর পরিবর্তন আনবে। প্রকৃতির প্রতি যত্ন ও শ্রদ্ধা দিয়ে আমরা সুস্থ ও সবুজ ভবিষ্যত গড়তে পারি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রকৃতি সংরক্ষণ কমিটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রকৃতি সংরক্ষণ কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More