শহীদ রূপন ও গুমের শিকার সমর-সুকেশ-মনতোষের স্মরণে নান্যাচরে শিক্ষার্থীদের আলোচনা সভা

0


নানাচর প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

“স্কুলছাত্র রূপন চাকমার আত্মবলিদান ও সমর-সুকেশ-মনতোষ গুম হওয়ার ৩০তম বার্ষিকীতে রাঙামাটির নান্যাচরে “অপহৃত বোন উদ্ধারে ভাইয়ের আত্মবলিদান, পাহাড়ে মা-বোনের নিরাপত্তাহীনতা ও ছাত্র-যুবসমাজের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে নান্যাচর উপজেলার স্কুল পড়ুয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বেলা ২:০০টার সময় আয়োজিত আলোচনা সভায় সাধারণ শিক্ষার্থী পূর্ণতা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ শিক্ষার্থী বৈশালী চাকমা ও অনুব চাকমা। সভায় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা।

সভা শুরুতে সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বক্তরা বলেন, সেনা কমান্ডার লে. ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমাকে উদ্ধারের দাবিতে ১৯৯৬ সালের ২৭ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ পালন করতে গিয়ে তৎকালীন ১০ম শ্রেণির ছাত্র রূপন চাকমা আনসার-ভিডিপির গুলিতে শহীদ হন এবং সমর, সুকেশ ও মনতোষ সেটলারদের হামলার শিকার হয়ে গুমের শিকার হন।

আমরা সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানতে পারি যে, সেদিন অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে আরও অনেকের সাথে খেদারমারা গ্রামের সুকেশ চাকমা (১৬) ও সমর বিজয় চাকমা, বঙ্গলতলী গ্রামের মনতোষ চাকমা (২২) ও রূপকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র রূপন চাকমা (১৬) রাজপথে নেমে পড়েন। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করে দিতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, সেটলারসহ সামরিক বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়।  যথারীতি অবরোধ চলাকালে প্রশাসনের মদদে এক পর্যায়ে সেটলাররা বিনা উস্কানিতে অবরোধ পালনকারী ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে জনৈক ভিডিপি সদস্য (সেটলার) পুলিশের কাছ থেকে রাইফেল কেড়ে নিয়ে অবরোধ পালনকারী ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছোঁড়ে। এতে রূপন চাকমা ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। এছাড়া একই দিন সমর-সুকেশ, মনতোষ চাকমার ওপরও সেটলার বাঙালিরা হামলা চালায় ও তাদেরকে গুম করে ফেলে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকার পালাবদল হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি হয় না। কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে. ফেরদৌসের বিচারের পরিবর্তে তাকে প্রমোশন প্রদান করা হয়। যার কারণে নারী ধর্ষণ, নির্যাতন, খুন, গুমের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেই চলেছে।

বক্তারা পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতি চিন্তা চেতনায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১১ জুন দিবাগত রাত ১:০০টায় (অর্থাৎ ১২ জুন) বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

এ অপহরণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের মধ্যে তৎকালীন কজইছড়ি আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লে. ফেরদৌস ও ভিডিপির নুরুল হক ও সালেহ আহম্মদকে চিনতে পারেন।

উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে ও অপহৃত কল্পনা চাকমাকে উদ্ধারের দাবিতে সে বছর ২৭ জুন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি গণ পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে বাঘাইছড়িতেও অবরোধ পালন করা হয়েছিল।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More