চবিতে পিসিপির আলোচনা সভা : নাগাসাকির ‘অদম্য বালক’ থেকে শেখার ওপর গুরুত্বারোপ

0


চবি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

‎চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর চবি শাখার উদ্যোগে “সংকটেই আবির্ভাব ঘটে বীরের, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারহারা জাতির মুক্তির লড়াইয়ে চাই শত শত ‘নাগাসাকির অদম্য বালক” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকালে ‘নাগাসাকি দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সুদর্শন চাকমার সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আলোচনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চবি শাখার সভাপতি ভূবন চাকমা।

‎আলোচনার শুরুতে এ যাবৎ পাহাড়ের লড়াই-সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন এবং ৯ আগস্টে মার্কিন বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

‎আলোচনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে ২য় বিশ্বযুদ্ধ একটি অমানবিক ও ভয়াবহ ঘটনা। অক্ষশক্তিগুলোর আগ্রাসী ভূমিকা, জার্মানির হিটলারের নাৎসিবাদ, ইতালির মুসোলিনীর ফ্যাসিবাদ ও জাপানের সাম্রাজ্যবাদ ২য় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ। এছাড়াও ত্রিশ দশকে অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বিস্ফারিত পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, যার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এত ধ্বংসযজ্ঞ চলার পরেও নাগাসাকি বালকের ছবির মতো অদম্য মানসিক শক্তি নিয়ে জাপান ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যদিও তৎকালীন জাপানের আগ্রাসী ভূমিকা সমর্থন দেয়ার মতো নয়।

‎সভাপতির বক্তব্যে ভূবন চাকমা বলেন, ২য় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অক্ষশক্তিগুলো যদি আগ্রাসী ভূমিকা পালন না করত তাহলে ২য় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতো না। তবুও ইতিহাস থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। জার্মানি, ইতালি ও জাপান আগ্রাসনের কারণে এতোগুলো দেশ দখল করার পরও আগ্রাসনের ভূমিকা পরিত্যাগ না করায় পরে তাদেরকে পতন হতে হয়। এই আগ্রাসনের মন-মানসিকতা আমাদের গ্রহণ করা উচিত নয় এবং আমরা তা সাপোর্টও করি না।

‎তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের নাগাসাকিতে বোমা হামলা করার পর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হলো তা জানার জন্য একটা টিম সেখানে পাঠালে সাংবাদিক জো ও’ডোনেল ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন নাগাসাকিতে পৌঁছান, তখন চারপাশ ছিল ধ্বংসস্তূপ। শ্মশান বা চুল্লি বলতে কিছু ছিল না, শহরের এক প্রান্তে খোলা জায়গায় বড় গর্ত করে মৃতদেহ পুড়িয়ে শেষকৃত্য করা হচ্ছিল। ও’ডোনেল লক্ষ্য করেন ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে পিঠে একটি শিশুকে নিয়ে হেঁটে আসছে। ছেলেটি জ্বলন্ত চিতার সামনে এসে একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পিঠের শিশুর মাথাটি পেছনের দিকে এমনভাবে ঝুঁকে ছিল, দূর থেকে মনে হচ্ছিল সে গভীর ঘুমে মগ্ন। সেখানে যারা মৃতদেহ পোড়ানোর কাজ করছিল তারা তার পিঠ থেকে বাঁধন খুলে শিশুটিকে চিতার আগুনে আলতো করে শুইয়ে দেয়। তখনি ও ডোনেল বুঝতে পেরেছে শিশু মৃত।

‎যখন তার ভাইকে আগুনের শিখা গ্রাস করছিল, ছেলেটি এক চুলও নড়েনি। সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে কাঁদছিল না, কিন্তু তার ভেতরের তীব্র মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ পাচ্ছিল তার ঠোঁট কামড়ের ধরন দেখে। সে নিজের নিচের ঠোঁট এত শক্ত করে কামড়ে ধরেছিল যে তা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।

‎এই বালক থেকে আমাদেরও ভালোবাসা ও দৃঢ় মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত তা শেখা। ক্ষয়ক্ষতি বা পরাজিত হয়েও কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেই দৃঢ় মানসিকতা আমাদের শেখা উচিত। পাহাড়ের মুক্তির লড়াইয়েও নাগাসাকির অদম্য বালকের মতো শত শত অদম্য, দৃঢ়চেতা বালকের প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।  

‎তিনি আরো বলেন, আমরা মোঘল আমল, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ শাসনামলে আছি। কিন্তু আমাদের সেরকম ভালোবাসা, দৃঢ় মন-মানসিকতা ও সংঘবদ্ধ থাকতে না পারায় আমরা এখনও নিপীড়িত। তিনি সকলকে এরকম দৃঢ় মন-মানসিকতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More