মাটিরাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে তল্লাশি-হয়রানির শিকার হয়েছেন এক পাহাড়ি শিক্ষক

0
প্রতীকী ছবি 


মাটিরাঙ্গা(খাগড়াছড়ি), সিএইচটি নিউজ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এক পাহাড়ি শিক্ষক।

আজ সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে মাটিরাঙ্গা ও বাইল্যাছড়ির মাঝামাঝি যৌথখামার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক নিজেই তাঁর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, সকাল ৯:৩০টার সময় স্কুলে যাবার পথে মাটিরাঙ্গা ও বাইল্যাছড়ির মাঝামাঝি যৌথখামার এলাকায় নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁর বাইকের গতিরোধ করা হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তার বাইকের সিটের ভেতরে কি আছে বলে জিজ্ঞাসা করে। তিনি উত্তরে “কিছু তো নাই’ জানালে তারা তাঁকে সিটটা খুলে দেখাতে বলেন। এতে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে তাদেরকে বলেন “ভেতরে তো কিছু না, চাইলে আপনারা খুলে দেখতে পারেন।”

এরপরও মনপুত না হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুনরায় ব্যগে কি আছে বলে তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি, টিফিন বক্স, দুপুরের ভাত রয়েছে বলে তাদেরকে জানানোর পরও তারা তাঁর ব্যাগ চেক করেন। ব্যাগের ভিতর মার্কার পেন পেয়ে তারা কিছুটা ক্ষান্ত হয় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান।

এমতাবস্থায় তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে জানান যে, ‘আমার ১০টায় ক্লাস। আপনারা যদি এভাবে হয়রানি করেন তাহলে ক্লাস তো মিস হয়ে যাবে।’ 

তাঁর এ কথার উত্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে বলেন “এটা তাদের ডিউটি। চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গোলাগুলি হয়েছে তাই তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন’।

এরপর তিনি (শিক্ষক) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এতদিন ধরে প্রকাশ্যে, দিনে-দুপুরে চাঁদাবাজি হচ্ছিল তখন সেটা দেখেননি? জিরো মাইলে সেনা চৌকির ১০০ মিটারের মধ্যে প্রকাশ্যে চাঁদা নিচ্ছে এটাতে কেন তল্লাশি করেন না? এগুলো কারা চালাচ্ছে আমরা, আপনারা সবাই জানি। তাহলে এই হয়রানি কেন? (শিক্ষকের ভাষ্য মতে, এ সময় তারা জিরোমাইল না চেনার ভাণ করে।)

তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে বলেন, ‘আমাদের তো ডিউটি করতে হবে। আপনি যেমন স্কুলে করেন।”

তখন সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক প্রতিউত্তরে তাদেরকে বলেন যে, “আপনাদের কাজ তো সেটাই। কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ সেটা প্রশ্ন করার অধিকার আপনাদের নেই। আপনারা শুধু আদেশ পালন করেন তাই না?”

পরে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে গন্তব্যে রওনা দেন বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষক।

পাহাড়ে এভাবে নিরাপত্তার অজুহাতে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে এ নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More