সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ

0


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপ মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারও কাছ থেকে ১ লক্ষ, কারও কাছ থেকে দেড় লক্ষ, কারও কাছ থেকে ২-৩ লক্ষ টাকাও তারা দাবি করছে বলে জানা গেছে। যদিও তারা এসব টাকা ‘ধার’ হিসেবে চাচ্ছে বলে মুরুব্বীদেরকে বলেছে।

জানা যায়, গত রবিবার (৩ মে ২০২৬) জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বেশ কয়েকটি গ্রামের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মুরুব্বীদেরকে উদয়পুরে ডেকে পাঠায়। তাদের ডাকে মুরুব্বীরা সেখানে গেলে সন্তু গ্রুপের লোকেরা তাদের কাছ থেকে সামর্থ্য অনুসারে ১ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টাকা ‌‘ধার’ হিসেবে দাবি করে। এই ধার্যকৃত টাকা তাদেরকে ‘‌অবশ্যই দিতে হবে’ বলে জানিয়ে দেয়।

যাদেরকে ডেকে টাকা দাবি করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- ১. সুনীল বিকাশ চাকমা ওরফে রককো, গ্রাম মৌন আদাম; ২. জিককো চাকমা, গ্রাম- নিউলংকর; ৩. শুক্র কুমার চাকমা, গ্রাম- দাড়িপাড়া; ৪. নীল রতন চাকমা ওরফে আঙারা, গ্রাম- ছয়নালছড়া; ৫. মহেন্দ্র চাকমা, গ্রাম-উদয়পুর; ৬. কালাধন চাকমা, প্রাক্তন মেম্বার, গ্রাম- বটটলা; ৭. প্রতি ময় চাকমা (প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক, নিউলঙকর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) গ্রাম- বটটলা; ৮. জ্ঞানময় চাকমা, গ্রাম- ১৭ কিলো/বতটলা পরে নতুন বসতি; ৯. বীর কুমার চাকমা, প্রাক্তন মেম্বার, গ্রাম- লঙকর লাম্বাছড়া; ১০. প্রমোদ কান্তি চাকমা, কার্বারী, গ্রাম- তারাবন; ১১. নলনী কুমার চাকমা, গ্রাম- খাগড়াছড়ি; ১২. সায়েন্টি বাপ, গ্রাম- উজো বাজার ও ১৩. বিব্রকান্তি চাকমা, মেম্বার, গ্রাম- খাগড়াছড়ি, সাজেক।

সন্তু গ্রুপের লোকেরা তাদের কারও কাছে থেকে ১ লক্ষ, কারও কাছ থেকে দেড় লক্ষ, কারও কাছ থেকে ২ লক্ষ ও কারও কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে।

এছাড়া উদয়পুর বাজারের দোকানদারদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেছে বলে জানা গেছে।

এসব টাকা তারা ‘ধার’ হিসেবে দাবি করলেও আদতে তারা সেগুলো পরিশোধ করবে কি-না তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন। আর অনেকে মনে করছেন এটা তাদের চাঁদা আদায়ের একটা ‘নতুন কৌশল’ হতে পারে। যদি প্রকৃত অর্থে ‘ধার’ হতো ধার্যকৃত টাকা ‘অবশ্যই দিতে হবে’ এমন বাধ্যতামূলক আদেশ দেওয়া হতো না।  

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, তারা (সন্তু গ্রুপ) হয় অর্থ সংকটে পড়েছেন, নতুবা অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করে সংঘাত বৃদ্ধির জন্য এভাবে টাকা দাবি করছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More