চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশনে ৬ দফা দাবিতে পদযাত্রা, মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহিত
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও জাতিসত্তাসমূহের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, অধিকার হরণ ও বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে চট্টগ্রাম নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ কনভেনশন।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলরুমে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
কনভেনশনে তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারী, শিক্ষার্থী, যুবক, নারী, কৃষক-সহ নানা শ্রেণি-পেশার ৪ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচার ও ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রতিনিধি তাদের অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।
কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব বাবুধন চাকমার সঞ্চালনায় কনভেনশনে বক্তব্য দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান; বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলার সংগঠক লাবনী তঞ্চঙ্গ্যা; লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা ও যুগ্ম আহ্বায়ক রিংরং ম্রো ও সদস্য লাংকম ম্রো; কক্সবাজার জেলার প্রতিনিধি মনি স্বপন চাকমা; চট্টগ্রাম জেলা সীতাকুণ্ড এলাকার প্রতিনিধি বিকারণ ত্রিপুরা ও কাঞ্চন ত্রিপুরা; সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা; সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জিকো চাকমা; ৮৫ নং বর্মাছড়ি মৌজার হেডম্যান নিলাপ্রু মারমা; সত্তা বর্মাছড়ি ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রহলাদ চাকমা; লংগদু সড়ক রক্ষা কমিটির সদস্য সেন্ট্র চাকমা ও কাউখালী উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক হেমন্ত চাকমা প্রমুখ।
কনভেনশনে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৬ দফা দাবিতে পদযাত্রা, মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি বাতিল, ‘অপারেশন উত্তরণ’ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নিবর্তনমূলক অবৈধ ‘১১দফা নির্দেশনা’ প্রত্যাহার; সাজেক সহ বিভিন্ন এলাকায় জনগণের বিরুদ্ধে চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মদতদান বন্ধ ও সেনা অভিযানের নামে নির্বিচারে ধরপাকড়, হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা; তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান-সদস্যপদে রাজনৈতিক মনোনয়ন বাতিল করে অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেওয়া; বিনা বিচারে আটক বম জাতিসত্তার নারী-পুরুষ সহ রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি, সাজেক থেকে সমঝোতা অনুযায়ী চিহ্নিত সশস্ত্রগোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়া, আঞ্চলিক পরিষদে অবৈধ নিয়োগ দান বাতিল, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সরিয়ে নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা।
কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক উষাতন চাকমা উক্ত দাবিতে স্মারকলিপি পেশ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি অঙ্কন, উঠোন বৈঠক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংহতি সভা; উপজেলা সদরে বিক্ষোভ, জেলা সদরে অবস্থান ধর্মঘট; পদযাত্রা ও মহাসমাবেশ, অবরোধ ও ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা করলে উপস্থিত সকলে হাত উঁচিয়ে তা সমর্থন জানান এবং জোর করতালির মাধ্যমে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেন।
“জনতার সংগ্রাম চলবেই…” এই গণসঙ্গীত বাজিয়ে কনভেনশন উদ্বোধন করা হয়। এরপর শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা-সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। কনভেনশনে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সদস্য কবিতা চাকমা।

কনভেনশনে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্যে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারও ক্রমে এমন এক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকারের অবমূল্যায়ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলেও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত হয় না

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সেনা অভিযান ও টহলের নামে বাড়িঘরে তল্লাশি, হয়রানি, লুটপাট, শারীরিক নির্যাতন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ, নিরীহ ব্যক্তিদের আটক এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা-নেতৃত্বাধীন অংশের সশস্ত্র সদস্যদের প্রতি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় পাহাড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবেশকে সংকুচিত করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে সামরিক নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলছে। যারা জনগণের অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে সংগঠিত হতে চান, তাঁদেরও নানাভাবে বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হতে পারে না। জনগণের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই সংকট উত্তরণের পূর্বশর্ত।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিনটি কমিটি গঠন নিয়ে উষাতন চাকমা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম-সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের নামে এসব কমিটির মাধ্যমে পুনর্বাসিত বাঙালি সেটেলারদের একচ্ছত্র স্বার্থ ও ক্ষমতা সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ি জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব, ভূমির অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বার্থ আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করা জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোকাবিলা করার প্রচেষ্টা অতীতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায়, পাহাড়ে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে উষাতন চাকমা বলেন, সরকারের বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আমাদের আত্ম-সমালোচনামূলক আলোচনা প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব কেবল নিজ নিজ সাংগঠনিক অবস্থান রক্ষা করা নয়, বরং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করাও তাদের কর্তব্য।
জেএসএসের সন্তু লারমা-নেতৃত্বাধীন অংশের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত প্রায় ২৯ বছরে কার্যকর ও ধারাবাহিক গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দলটি প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও অগ্রাধিকার নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জেএসএসের উচিত ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করা, সশস্ত্র পথ পরিহার করা এবং ইউপিডিএফসহ পাহাড়ের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
তিনি ইউপিডিএফের বিষয়ে বলেন, ইউপিডিএফ সরকারের গঠিত তিনটি কমিটিকে জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও আমলানির্ভর বলে সমালোচনা করেছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনের নামে অতীতের সামরিক শাসনামলের মতো বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হলে পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ইউপিডিএফ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের পক্ষ থেকেও সরকারের সম্ভাব্য জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মৌলিক অধিকার, ভূমির অধিকার, জাতীয় অস্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নে সব গণতান্ত্রিক ও অধিকারকামী শক্তির মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। পারস্পরিক সংঘাত ও অবিশ্বাস কেবল জনগণের আন্দোলনকে দুর্বল করবে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে।
উষাতন চাকমা ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের অধিকার ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনরত বিভিন্ন দল, সংগঠন ও জনগণের অংশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসমূহের জাতীয় অস্তিত্ব, ভূমির অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে ব্যক্তিগত, দলীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, সহযোগিতা এবং সম্মিলিত কর্মসূচির ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করে জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থের ভিত্তিতে ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা, নিজেদের মধ্যে ইতিপূর্বে সম্পাদিত লিখিত বা অলিখিত সমঝোতা ও চুক্তি থাকলে তার শর্তাবলি আন্তরিকভাবে মেনে চলা এবং পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, সাধারণ জনগণের সংগঠিত হওয়া, মতপ্রকাশ করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বাধীনতাকে সম্মান করা ও জনগণের ওপর হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা জবরদস্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার জন্য পাহাড়ি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি জেএসএসের সন্তু লারমা-নেতৃত্বাধীন অংশের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে নিজ জাতির মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকুন। বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতবিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নিন; জনগণের দাবি ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংগঠনিক বাস্তবতাকে সম্মান করে সাজেকের প্রতিপক্ষ দলের সাংগঠনিক এলাকা থেকে সরে যাওয়ার উদ্যোগ নিন। একই সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য, উসকানিমূলক আচরণ এবং সংঘাত বাড়াতে পারে এমন কার্যক্রম পরিহার করুন; সাধারণ জনগণকে হুমকি প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা তাঁদের স্বাধীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দিন।
উষাতন চাকমা তাঁর লিখিত বক্তব্যে সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন-
১. গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্ভর কাঠামোর পরিবর্তে জনগণের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি বাতিল করুন। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নতুন, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়ে তুলুন।
২. পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পাহাড়ি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামরত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, নারী সমাজ, তিন পার্বত্য জেলার তিন সার্কেল চিফ বা রাজা এবং মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করুন। এই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থবহ রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করুন।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও অযৌক্তিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। শেখ হাসিনার শাসনামলে গঠিত বলে পরিচিত ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী ভেঙে দিন। পাশাপাশি, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জিইয়ে রাখা কিংবা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন সাজেক এলাকায় সংঘাত ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত জেএসএসের সন্তু লারমা-নেতৃত্বাধীন অংশের সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সশস্ত্র তৎপরতা নিরসনে নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নিন।
৫. পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের স্বার্থ, অধিকার ও মতামত উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন, সংশোধন, সংস্কার কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ, ভূমির অধিকার, জাতিগত পরিচয় এবং রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথ গুরুত্ব দিন।
৬. পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা না করে এর ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট স্বীকার করে এ অঞ্চলের জনগণের মৌলিক দাবি স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো নাগরিক রাজনৈতিক পরিচয়, জাতিগত পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা ভিন্নমতের কারণে নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হবেন না। আমরা এমন একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চাই, যেখানে পাহাড়ি জনগণ তাঁদের জাতীয় অস্তিত্ব, ভূমির অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন; যেখানে সশস্ত্র সংঘাতের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, প্রতিহিংসার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বলপ্রয়োগের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন আন্দোলনই অধিকার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই সব বিভেদ, অবিশ্বাস ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতিগত মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই।
কণিকা দেওয়ান বলেন, রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করেছে, সন্ত্রাস দমনের নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। পাহাড়ের সমস্যাকে রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ না করে সামরিককায়ন করে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। সুতরাং রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্ঠীর মিলিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে।

লাবনী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, যে কোন ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছ থেকে সমস্যা সমাধান চাওয়া মানে বোকামি। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। পর্যটন, উন্নয়নের নামে পাহাড়িদের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, ভূমি বেদখল করা হচ্ছে। এসব বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, এগুলো রাষ্ট্রের পরিকল্পনার অংশ। তিনি পাহাড় সমতলে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানান।

রংধজন ত্রিপুরা বলেন, লামা সরইয়ের ৪০০ একর ভূমি রক্ষার জন্য আমরা ২০২২ সাল থেকে আন্দোলন করছি। নিজেদের ভূমি ফিরে পাবার জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংস্থার কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন সুরাহা পাইনি। আমরা কোন মতে বেঁচে রয়েছি। লড়াই হল আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

লাংকম ম্রো বলেন, ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমরা দীর্ঘবছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। ভূমি দস্যুরা আমাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়েছে, তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাকে ৩ বার জেলে যেতে হয়েছে, ৬টির অধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। নিজ ভূমি রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় সেনা কর্মকর্তা ও ভূমি দস্যুরা আমাকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেছে। তারপরও আমি বিচলিত হইনি, সংগ্রাম করছি। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।

সীতাকুণ্ড এলাকার পরিস্থিতি বিষয়ে কাঞ্চন ত্রিপুরা বলেন, সীতাকুণ্ড ত্রিপুরারা অস্তিত্বের হুমকিতে আছে। বিভিন্ন কোম্পানী ত্রিপুরাদের জায়গা দখল করছে। বর্তমানে ৩টি গ্রামকে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। নিজ এলাকা ও বাড়িতে চলাফেরা করতেও কোম্পানীর অনুমতি নিতে হয়। আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আমরা কোন প্রতিকার পাইনি এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও প্রতিকারমূলক কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কক্সবাজারের প্রতিনিধি মনি স্বপন চাকমা বলেন, কয়েক বছর আগে কক্সবাজার এলাকায় জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সংগঠনের সুবাদে আমি আজকে এই কনভেনশনে আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমরা নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আমাদের কক্সবাজার এলাকায় বর্তমানে ১৩-১৪ লক্ষ রোহিঙ্গার বসবাস। আর আমরা চাকমা সম্প্রদায় বেশি হলে ১২ থেকে ১৫ হাজারের মতো হবো। রোহিঙ্গাদের কারণে সবজিসহ সকল জিনিসপত্র এখন চড়াদামে কিনে খেতে হচ্ছে। সব মিলে কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারী চাকমা বা জাতিসত্তাদের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। তিনি কনভেনশনে এসে অনেকে সাথে পরিচয় ও দেখা হওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জনান।
নিলাপ্রু মারমা বলেন, সেনাবাহিনীর আইন শৃঙ্খলা মিটিঙে আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম সাধারণ জনগণের ওপর হয়রানি, নিপীড়ন বন্ধ করতে। কিন্তু বার বার তারা তা উপেক্ষা করে জনগণের উপর শোষণ, নির্যাতন করে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সেনা কর্তৃক হয়রানি বন্ধ করে জনগণের মতামতকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তিনি বর্মাছড়ি এলাকার জনগণের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণই হচ্ছে শক্তি। জনগণ আর সেনাবাহিনীকে ভয় করে না। তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন।

জিকো চাকমা বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার সাজেকের জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলন নিয়ে মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন “মারধর ও দশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে” এমন ভয় দেখিয়ে নাকি লোকজনকে অবরোধে নামানো হয়েছে। তাঁর এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রশাসন সাজেকবাসীর দাবি মেনে নিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। জনগণের এই দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আবারো সাজেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কনভেনশনের সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জুনান চাকমার মা ও শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ’র আহ্বায়ক রূপসা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, লামা সরইয়ের ডলুছড়া মৌজার হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা, লামা সরইয়ের কার্বারী রেংয়েন ম্রো। এছাড়াও কনভেনশনের সংহতি জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সংগঠক অপু দাশ গুপ্ত।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিরোধ সাংস্কৃতি স্কোয়াড-এর পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ষণ ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে একটি বিশেষ নাটিকা পরিবেশন করা হয়।


এরপর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে মিলিত হয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উষাতন চাকমা কনভেনশনের গৃহিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
