মীরসরাইয়ে ইউডব্লিউডিএফ-এর শাখা কমিটি গঠিত

0


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ইইনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডব্লিউডিএফ) তথা শ্রমিক ফ্রন্টের কমিটি গঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় ১ম কাউন্সিলের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়।

মীরসরাই শ্রমিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সুগত চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য লতিন চাকমার সঞ্চালনায় আয়োজিত কাউন্সিল সভায় বক্তব্য রাখেন ইউডব্লিউডিএফের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব শুভ চাক, শ্রমিক ফ্রন্টের সদস্য কিরণ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য দয়াসোনা চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা।

সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, অসুস্থ অবস্থায়ও শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয় না, যা একধরনের অমানবিক নির্যাতন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয় না। এমনকি স্বল্প পরিমাণ বেতনও নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয় না। কখনো কখনো মাসের ১৫–১৬ তারিখে বেতন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও পরিবার পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

বক্তারা আরও বলেন, অর্থনৈতিক শোষণ ও দমন-পীড়নের কারণে বহু পাহাড়ি মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে শহর ও শিল্পাঞ্চলে এসে শ্রমিকের জীবন বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পাহাড়ি শ্রমিকেরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শ্রমিক ফ্রন্টের প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি কৃষকেরা বাঙালি ব্যবসায়ীদের একাংশের দ্বারা অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছেন। কৃষক ও শ্রমিকদের ওপর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের নিপীড়িত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নারী শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই হেনস্তার শিকার হন। সংখ্যালঘু হওয়ায় পাহাড়ি নারী শ্রমিকদের আরও বেশি হেনস্তার শিকার হতে হয়। কর্মক্ষেত্রে পাহাড়ি নারী শ্রমিকদের উদ্দেশে কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্য করা হয় বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। পাহাড়ি মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং নারী নির্যাতন ও হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পাহাড়িদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পাহাড়ে একই দমনমূলক নীতি বহাল রাখে। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রতিক্রিয়াশীল দালালদের ব্যবহার করে সুকৌশলে জাতিগত বিভক্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়েও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, জাতীয় ক্রান্তিকালে বিভিন্ন জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হবে। তাই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। সুসংগঠিত থাকার জন্য সংগঠন প্রয়োজন। সংগঠনের মধ্য দিয়েই মানুষের মধ্যে অধিকার-সচেতনতা ও সংগ্রামী চেতনার বীজ রোপিত হয়।

তাঁরা আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে পাহাড় থেকে শহরে আসতে হলেও নিজেদের শিকড় তথা পাহাড়ের সমাজে ফিরে যেতে হবে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং শ্রমিকসহ সর্বস্তরের নিপীড়িত মানুষকে সংগঠিত হতে হবে। সুসংগঠিত জনগণের শক্তিকে কেউ রুখে দিতে পারে না।

সভা থেকে সাজেকে ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলাকালে জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সময়মতো বেতন প্রদান, অসুস্থতাজনিত ছুটিসহ শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে পাহাড়ি নারী শ্রমিকদের ওপর হেনস্তা বন্ধ করার দাবি জানান।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জুয়েল চাকমাকে সভাপতি, সুগত চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং লতিন চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট মীরসরাই শাখা কমিটি গঠন করা হয়। সভাশেষে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান ইউডব্লিউডিএফের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব শুভ চাক।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More