বাঘাইছড়িতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের দুই যুগ পূর্তিতে আলোচনা সভা

0


বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর দুই যুগ পূর্তিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার সময় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় ডিওয়াইএফের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

“যুব শক্তি গর্জে ওঠো, সরকারি বিপ্লবীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াই জোরদার করো” এই আহ্বানে আয়োজিত আলোচনা সভায় ডিওয়াইএফের বাঘাইছড়ি উপজেলা সহসাধারণ সম্পাদক সমর জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে ও মাজলঙ শাখার সভাপতি অজন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ক্যামরণ দেওয়ান, খাগড়াছড়ি জেলা অর্থ অনুপম চকামা, ইউপিডিএফ সংগঠক রুপেশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি অমিতা চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি বিশাখা চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সুজয় চাকমা।

সভা শুরুতে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকল শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ইউপিডিএফ সংগঠক রুপেশ চাকমা বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম আজ ২ যুগ পূর্ণ করেছে। আজকের দিনটি একদিকে আনন্দ ও গৌরবে, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘ দুই যুগের লড়াই সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের হারানোর বেদনা।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণমানুষের ন্যায্য দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আদায়ের লক্ষ্যে যে সংগ্রাম তাতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আগামীতেও এ সংগঠনকে লড়ায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে নিপীড়ন-নির্যাতন যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অধিকার অর্জনের ইতিহাসও। প্রত্যেকটি সফল বিপ্লবের ছাত্র-যুব সমাজের অবদান অপরিসীম। জাতির বিজয়ের ইতিহাস রচনা করতে যুবকদের এগিয়ে আসতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামেও জাতির অস্তিত্ব রক্ষা তথা পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করতে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলনেও যুব সমাজকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

যুবনেতা ক্যামরুণ দেওয়ান চাকমা বলেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আপোষহীন লড়াই সংগ্রামের চালিয়ে আসছে। শাসকগোষ্ঠির কোন বাধাই এ সংগঠনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আগামীতেও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ও পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মুল সমস্যা হলো ভূমি সমস্যা। সরকার পরিকল্পিতভাবে সেটলারদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভূমি সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং দমন-পীড়ন জারি রেখে সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে। তাই সরকারকেই রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি যুব ফোরামের পতাকাতলে সমবেত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার জন্য যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০২ সালের ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে সচেতন পাহাড়ি যুবকদের নিয়ে সংগঠনটি গঠিত হয়। প্রথমে “পাাহড়ি যুব ফোরাম’ নামে সংগঠনটি গঠন করা হলেও পরে নামটি পরিবর্তন করে “গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম’ করা হয়। 



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More