দীঘিনালায় সেনাবাহিনী কর্তৃক রাসেল চাকমাকে মারধরের প্রতিবাদে সাজেকে বিক্ষোভ

0


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

“পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামে সেনাশাসন বন্ধ কর” শ্লোগানে সেনাবাহিনী কর্তৃক খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার শুকনাছড়া এলাকার বটতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল চাকমাকে বিনা অপরাধে মারধরের প্রতিবাদ ও দোষী সেনা সদস্যদের শাস্তির দাবিতে সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) দুপুর ১:০০টার সময় সাজেকের উজোবাজারে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নতুন জয় চাকমার সভাপতিত্বে ও সমর জ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা ও  ধারাস চাকমা।

সমাবেশে নতুন জয় চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন-নিপীড়ন, খুন, গুম করা হচ্ছে। আমি নিজেও আড়াই বছর বিনা অপরাধে জেল খেটেছি। তেমনি বিনা অপরাধে গতকাল বিকাল ৫টার সময়ে বাঘাইহাট জোনের একদল সেনা সদস্য দীঘিনালা উপজেলাধীন শুকনাছড়ায় এলাকায় গিয়ে রাসেল চাকমা নামে নিরপরাধ এক যুবককে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষ কী শুধু এভাবে বিনা দোষে নির্যাতনের শিকার হবে? আমরা কি মানুষ নয়?

তিনি রাসেল চাকমামে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দোষী সেনা সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া তিনি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলে আসলে তা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন। এখানে আমাদেরকে জাতিগতভাবে দমিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে সেনাশাসন জারি রেখে নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। গতকাল বিকালে দীঘিনালার রাসেল চাকমাকে মারধরের ঘটনা তারই অংশ।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাসেল চাকমা নয়, তার মতো প্রতিনিয়ত পাহাড়িরা অন্যায়ভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সেই শুকনোছড়ায় সেনাবাহিনীর সৃষ্ট সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা তরুণকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এক দেশে দুই নীতি চলবে না মন্তব্য করে তিনি রাসেল চাকমাকে অন্যায়ভাবে মারধরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি অবিলম্বে রাসেল চাকমাকে মারধরের ঘটনায় জড়িত দোষী সেনা সদস্যদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেন এবং যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। 

ধারাস চাকমা বলেন, আমরা অন্যায়ভাবে বিনাদোষে আর নির্যাতন হতে চাই না। যেখানে অন্যায় হবে সেখানে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More