অন্য মিডিয়া থেকে

রাঙামাটিতে তেলের জন্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন কৃষক, জেলে, গাড়ি চালকরা

0
রাঙামাটিতে জ্বালানি তেল নিতে পাম্পে কৃষক, জেলে এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের দীর্ঘ লাইন। ছবি সৌজন্যে: বাংলা ট্রিবিউন 

অন্য মিডিয়া ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি বিক্রির নির্ধারিত সময় ও রুটিনের জটিলতায় ডিজেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন কৃষক, জেলে এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শহরের চারটি পাম্পের মধ্যে তিনটিতে রুটিন অনুযায়ী ডিজেল নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক, বোটচালক, ট্রাকচালক ও জেলেরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান। স্থানীয় প্রশাসন সপ্তাহে তিনদিন ডিজেল বিক্রি এবং সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের পরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পান না। এতে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের। 

কৃষকরা জানান, সেচ দিতে না পারায় জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে, গাছপালা মরে যাচ্ছে। এখন তারা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে বিক্রির সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে নারীদেরও। তারা জানান, পুরুষরা নদীতে মাছ ধরতে গেছেন। তেল পেলেই তারা আবার জাল নিয়ে নদীতে যেতে পারবেন। ডিজেল সংকটে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খরচও বাড়ছে।

তেলের অভাবে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। ছবি সৌজন্যে: বাংলা ট্রিবিউন

অন্যদিকে, টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। অকটেনের অভাবে এ দ্রুতগামী সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্পিডবোট লাইনম্যান মো. মহি উদ্দিন।

বরকল থেকে রিজার্ভ বাজারের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল চাকমা বলেন, “গত পরশুদিনও (৩১ মার্চ) তেল পাইনি। আজও (২ এপ্রিল) ১১টা বেজে যাওয়ায় লাইনে থাকা কাউকে আর তেল দিচ্ছে না। এখন কী করবো? ক্ষেতের জমি ফেটে গেছে, পানি দিতে পারছি না। বৃষ্টিও হচ্ছে না—কে দেখবে আমাদের?”

রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকার এক কৃষক বলেন, “সময়টা বাড়িয়ে দিলে আমরা কিছু তেল পেতাম। সকাল ছয়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।”

পণ্য পরিবহনের চালক মো. মনির হোসেন বলেন, “ট্রাকে তরমুজ নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। পাম্পে এসে বসে থেকেও ডিজেল পাইনি। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

রাঙামাটি কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সেচ কাজে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বোরো আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। অনেকেই দূর উপজেলা থেকে শহরে তেল নিতে আসছেন, এতে কৃষি খরচ বাড়ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যেন ডিজেল পান, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More