রাঙামাটির লংগদু ও বন্দুকভাঙায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ ও সেনাবাহিনীর হয়রানিতে জনগণ অতিষ্ঠ

0


রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির জেলার লংগদু ও বন্দুকভাঙা ইউনিয়ন এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ ও সেনাবাহিনীর নানা হয়রানিতে এলাকার জনগণ চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লংগদু ইউনিয়নের কাট্টলী আমবাগান নামক স্থানে সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে সেনা সদস্যরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি দল সে এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়। সেই থেকে কাট্টলী এলাকার জনসাধারণকে তাদের জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   

ছোট কাট্টলী গ্রামের জনৈক মুরুব্বীর ভাষ্যমতে, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দুই বেলা ভাত খাওয়াতে প্রতি পরিবারে ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকার জনগণ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। একইভাবে বড় কাট্টলী, ডুলুছড়ি, তানজাঙছড়াসহ বেশ কয়েকটি পাড়ার বাসিন্দাদেরও একইভাবে পালাক্রমে প্রতিদিন সকাল-বিকাল তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আগামীকাল অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর বেঙীছড়া গ্রামবাসীদেরকে তাদের জন্য সকাল ও বিকালের ভাতের ব্যবস্থা ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সন্ত্র গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ জনগণ চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুরুব্বী ক্ষোভের সাথে বলেন, যে সেনাবাহিনী পাহাড়িদের ধ্বংস করতে চায় তাদের সহযোগিতা নিয়ে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা আমাদের এলাকায় এসে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করছে। তারা যদি সরকার-সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতো তাহলে আমাদের কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু তারা তো সেটা করছে না। তাহলে জনগণকে এত হয়রানি করার তো কোন প্রয়োজন নেই।

অপরদিকে, নান্যাচর জোনের (১৭ বেঙ্গল) টু-আইসি মেজর নাঈমের নেতৃত্বে ৮০-৯০ জনের একদল সেনা সদস্য গত ৮ ও ১১ অক্টোবর বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের দিমুখ্যাছড়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়। তারা সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাথে সংযোগ রেখে দ্বিমুখ্যাছড়া পাড়ায় অভিযানের নামে টিলা-পাহাড় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেনাদের এমন ঘোরাঘুরির কারণে এলাকার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন কাজকর্মে এবং স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাধারণ জনগণ ভয়ে ঠিকমত কাজে পারছেন না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, সেনাবাহিনী হয়তো তাদের এলাকায়ও জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের নিয়ে এসে হয়রানি করতে পারে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এলাকার অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সেনাবাহিনীর যদি সত্যিকার অর্ধে ‘সন্ত্রাসী’ ধরার এতই শখ থাকে তাহলে তারা জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থানস্থল কাট্টলীর আমবাগান এলাকায় না গিয়ে কেন অভিযানের নামে সাধারণ জনগণকে ভয়-ভীতির মধ্যে রেখেছে? তাহলে তাদের আসল মতলব কি সাধারণ জনগণকে হয়রানি করা?



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More