আজ ভূষণছড়া গণহত্যার ৪২ বছর, হয়নি কোন বিচার

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
আজ ৩১ মে ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস। ১৯৮৪ সালের এই দিন সেনা-বিডিআর-সেটলার কর্তৃক সম্মিলিতভাবে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া এলাকায় পাহাড়িদের ওপর এ গণহত্যা সংঘটিত করা হয়। এতে ৪০০ জন পাহাড়ি নিহত হয় বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন রিপোর্টের সূত্রে জানা যায়। তৎকালীন শান্তিবাহিনী কর্তৃক আক্রমণের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
বর্বর এ গণহত্যার ৪২ বছর পূর্ণ হলেও কোন বিচার হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ ব্রিগেডের ২৬তম বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও বিডিআরের ১৭নং ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সেটলার বাঙালিদের সাথে নিয়ে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে হামলা করে। বিশেষ করে হেটবাড়িয়া, সুগুরি পাড়া, তারেঙ্গাঘাট, ভূষণছড়া, গোরস্থান ও ভূষণবাগ এলাকাগুলো বেশী আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভূষণছড়া গ্রাম। হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৪০০ জন পাহাড়ি নিহত হন। এতে অন্তত ৭ জন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গুলি ও বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করা হয়। আহত হন অন্তত ১৩ জন। এছাড়া ১৫ শ’ পাহাড়ি বন-জঙ্গলে আশ্রয়গ্রহণ ও ৭ হাজার পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হেটবাড়িয়ার একজন গ্রামবাসী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,
‘‘ আমার গ্রামটি বরকল পুনর্বাসন জোনে পড়েছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে বিপুল সংখ্যক মুসলিম বসতি স্থাপন করেছে। এরফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মের দিকে ঘন ঘন সংঘর্ষ হতে লাগলো এবং মুসলিমরা সেনাবাহিনী আসবে ও তোমাদের শিক্ষা দিবে বলে প্রায় হুমকি দিতো। মুসলিমদের বড় একটি গ্রুপ নিয়ে ৩১ মে সেনাবাহিনী আসে যাদের অনেকে অস্ত্রধারী। তারা আমাদের গ্রাম ধ্বংস করলো , মেয়েদের ধর্ষণ করলো এবং লোকজনকে হত্যা করলো। আমি দুইজন মহিলাকে ধর্ষিত হতে দেখেছি এবং তারপর তাদের বেয়নেট দিয়ে হত্যা করা হয়। আরতি নামের আমার এক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়কে কয়েকজন সৈনিক মিলে ধর্ষণ করে এবং বেয়নেট দিয়ে তার শরীর বিকৃত করা হয়। শিশুসহ বহু লোককে জলন্তু বাড়িতে নিক্ষেপ করা হয়। আমি টর্চারের শিকার জনসাধারনের মধ্যে একজন ছিলাম। আমাদের ৫ বা ৬ জনকে গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। সম্ভবত মৃত ভেবে ফেলে রেখেছিল এবং বেচেঁ যায়। সেই দিনের স্মৃতি এখনো দুঃস্বপ্ন মনে হয় আমার। এখনো মাঝে মাঝে ঘর্মাক্ত হয়ে জেগে উঠি সৈন্যদের মহিলাদের গোপনাংশে বেয়নেট বিদ্ধ করার দৃশ্যগুলো মনে করে। তারা চিৎকার করে বলেছিল, কোন চাকমা বাংলাদেশে জম্মাবে না।’’
আজ ৪২ বছরেও এই বর্বর গণহত্যার কোন বিচার হয়নি। যুগ যুগ ধরে এই বিচারহীনতার কারণে পাহাড়িরা সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। সরকারের উচিত পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর অন্যায়ের অবসান ঘটাতে এ যাবত সংঘটিত সকল গণহত্যা, সাম্প্রদায়িক হামলার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক শ্বেতপত্র প্রকাশ ও বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
