রামগড়ে নতুন বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে এক সেটলার বাঙালির ঘর নির্মাণ ও সেনা টহলে জনমনে উদ্বেগ

0


রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

রামগড়ের নাঙ্গেল পাড়া সংলগ্ন এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে এক সেটলার বাঙালির ঘর নির্মাণ ও অব্যাহত সেনা-বিজিবি টহলে এলাকার জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার মো. জাহিদ হোসেন (২৭), পিতা- কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নতুন বসতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে পাহাড়ি গ্রাম নাঙ্গেল পাড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে নির্মাণ কাজ শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই কে বা কারা ঘরটি ভেঙে ফেলে।

স্থানীয়দের ধারণা, সেটলাররা নিজেরাই ওই ঘরটি ভেঙে ফেলে পাহাড়িদের ওপর দোষ চাপিয়ে জায়গাটি বেদখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

এদিকে, উক্ত ঘর ভেঙে ফেলার পরদিন নাঙ্গেল পাড়া এলাকায় বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের ডেকে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে বলেন। গ্রামের মুরব্বিরা এ সময় বিজিবি সদস্যদের জানান, কারা ঘরটি ভেঙেছে সে বিষয়ে তারা অবগত নন। এ বিষয়ে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

কিন্তু আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে বিজিবি সদস্যরা পুনরায় নাঙ্গেল পাড়ার মুরব্বিদের ডেকে নেন এবং তাদেরকে দিয়ে ভেঙে ফেলা ঘরটি পুনঃনির্মানের কাজ শুরু করেন। সকাল থেকে বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্মাণ কাজ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অপরদিকে, গতকাল ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল নিজস্ব দুইটি গাড়িযোগে বড় বেলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে তারা ছোট বেলছড়ি, গ্লোব কোম্পানির আম বাগান হয়ে তৈচাকমা পাড়া এলাকায় টহল দেয়। আজ মঙ্গলবারও সেনাবাহিনীর টহল ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

একদিকে সেটলার বাঙালির ঘর নির্মাণ, অপরদিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহলের কারণে জনমনে বিশেষত পাহাড়িদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, নির্মাণাধীন ঘরটি ভেঙে দেয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত ও জায়গা বেদখলের পাঁয়তারা হতে পারে।  

অভিযোগ রয়েছে, ঘর ভেঙে দেয়ার দায় সাধারণ পাহাড়িদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিজিবি কর্তৃক নাঙ্গেল পাড়া থেকে গ্রামবাসী ও মুরব্বিদের ডেকে নিয়ে ঘরটি পুনঃর্নির্মাণ করানো হয়েছে।

এলাকাবাসী বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং এ নিয়ে যাতে অপ্রীতিকর কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More