রামগড়ে বৈ-সা-বি উপলক্ষে ফুল উৎসর্গ ও শান্তি র্যালি অনুষ্ঠিত

রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব বৈ-সা-বি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু…) উপলক্ষে রামগড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুল উৎসর্গ ও শান্তি র্যালি।
“বৈসাবি উৎসব-২০২৬ উদযাপন কমিটি”র উদ্যোগে রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের দেড় সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে রামগড়ের মহামুনি পাড়া এলাকা থেকে র্যালি শুরু হয়ে ফেনী নদীতে গিয়ে ফুল উৎসর্গ করা হয়। এরপর র্যালিটি রামগড় বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে স্থাপিত ভাস্কর্যে গিয়ে সমবেত হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুলু মারমা। বক্তব্য দেন সুমন কান্তি চাকমা, মানিক ত্রিপুরা (মাস্টার) ও গুলোমনি চাকমা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তৈমাং ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে বুলু মারমা নিজস্ব মাতৃভাষায় সবাইকে বৈসাবির শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর বক্তব্যের সূচনা করেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়-নদী-প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই বৈসাবি উৎসব কেবল একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং এটি আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই উৎসব আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সুমন কান্তি চাকমাও তার মাতৃভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বৈসাবি আমাদের জাতিগত পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। তিনি উল্লেখ করেন, চাকমা রাজাদের সময়কাল থেকে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে এবং এর মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। নতুন বছরের সূচনায় সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। একই সাথে তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

মানিক ত্রিপুরা (মাস্টার) তাঁর ককবরক (ত্রিপুরা) ভাষায় প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন, বৈসাবি আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও জীবনধারাকে বহন করে চলেছে। তিনি বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষ পুরোনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পায়। সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বৈসাবির গুরুত্ব অপরিসীম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুলোমনি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু জাতিগোষ্ঠীর এক অপূর্ব মিলনভূমি। বৈসাবি সেই বৈচিত্র্যকে একত্রিত করে একটি সার্বজনীন উৎসবের রূপ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই উৎসব আমাদের শিখায় কিভাবে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আমরা একসাথে বসবাস করতে পারি এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারি। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৈসাবি উদযাপনের আহ্বান জানান।

সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
