যুবনেতা ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে সাজেকে ডিওয়াইএফের বিক্ষোভ

0


সাজেক (রাঙামাটি), সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‎রাঙামাটির কুদুকছড়িতে সন্তু লারমার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে হত্যা ও তার দুই বোনকে আহত করার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাঘাইছড়ি উপজেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক সমর চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য বীর চাকমা, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি জ্যোতি চাকমা।

বাবুধন চাকমা ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভাইয়ের বুকে গুলি চালিয়ে কোন জাতি অধিকার পেয়েছে- এমন নজির পৃথিবীতে নেই।

তিনি সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ২৭-২৮ বছরে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিইয়ে রেখে অনেক মা-বোন স্বামী হারা, অনেকে পিতা হারা, অনেকে পুত্র হারা, শত শত মায়ের বুক খালি করেছেন। কিন্তু আপনার চুক্তি কী বাস্তবায়ন হয়েছে?


তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার বাঙালি কর্তৃক যে জায়গা-জমি বেদখল হচ্ছে, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটছে সে বিষয়ে সন্তু লারমার কোন কথা বলেন না। যে সেনাবাহিনী পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তিনি কোন আন্দোলন করেন না। কিন্তু শাসকগোষ্ঠির কথায় তিনি উল্টো নিজের ভাইয়ের বুকে গুলি চালাচ্ছেন। নিজের ভাইকে শত্রু মনে করে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছেন।

তিনি সন্তু লারমাকে হত্যার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান।

যুবনেতা বীর চাকমা বলেন, সেনাবাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সন্তু লারমা তার সশস্ত্র বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমাকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমরা যারা জুম্ম জনগণের অধিকার নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করছি, এ যাবত আমরা বহু রক্ত দিয়েছি। আমরা কিছুতেই আন্দোলন থেকে পিছপা হবো না। শহীদদের রক্তের পথ বেয়ে, তাদের লালিত চেতনায় আমরা একটি পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।


তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এক শাসন আর সমতলে আরেক শাসন জারি রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনের মাধ্যমে খুন, গুমসহ নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়নমূলক পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি।

তিনি বলেন, ধর্মশিং চাকমার রক্ত কখনো বৃথা যাবে না। তার খুনিদের একদিন না একটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটিতে বিচার হবে।  

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

ছাত্রনেতা জ্যোতি চাকমা বলেন, গতকাল রাঙামাটির কুদুকছড়িতে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।


তিনি আরো বলেন, সন্তু লারমার আঞ্চলিক পরিষদের বসে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে রেখেছে। যারা জনগণের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছে তাদের খুন, গুম, হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব অন্যায়-অবিচার করে মুক্তিকামী ছাত্র সমাজকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করে রাখা যাবে না।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিসহ অবিলম্বে ধর্মশিং চাকমা’র খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More