যুবনেতা ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে রামগড়ে বিক্ষোভ

0


রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির কুদুকছড়িতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মসিং চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের উদ্যোগে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি লাচারি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিশ্বরোড প্রদক্ষিণ করে পিলাক ঘাট ব্রিজে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। এসময় পুরো এলাকা জুড়ে প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।


বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার হত্যাকাণ্ড একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস ঘটনা। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হয়, যার মধ্যে ছিল— “খুনিদের বিচার চাই”, “সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করুন”, “দালাল ও প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান” প্রভৃতি।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি ধনু ত্রিপুরা। এতে আরো বক্তব্য দেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা ধন মোহন ত্রিপুরা। সভা সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্ত চাকমা।

সভাপতির বক্তব্যে ধনু ত্রিপুরা বলেন, যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা রাঙামাটির কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় (আবাসিক) নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে গতকাল ১৭ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন। সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসীরা তার দুই বোনকেও গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। 


তিনি বলেন, ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় জনগণের ওপর এক গভীর আঘাত। এর বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। 

তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তিনি সরকারি বিপ্লবী, জাতীয় বেঈমান, দালাল-প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান। 

ধন মোহন ত্রিপুরা বলেন, ধর্মশিং চাকমা ছিলেন একজন সংগ্রামী ও সাহসী যুব নেতা। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা পাহাড়ের চলমান অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে। তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান ঘটনায় জড়িত সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে দ্রুত পদক্ষেপ নিন, নচেৎ জনগণ নিজেরাই প্রতিবাদে রাস্তায় নামবে।

সঞ্চালনাকালে শান্ত চাকমা বলেন, ধর্মশিং চাকমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসহ সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More