সন্তু লারমার সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন

0


রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় (আবাসিক) গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৫টার সময় নিজ গ্রামের শ্মশানে তার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রাঙামাটি সদর থানা পুলিশ পরিবারের নিকট মরদেহটি হস্তাস্তর করে।

এরপর মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে আসার পর মরদেহের কফিন সংগঠনের পতাকা দিয়ে আবৃত করা হয়। মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তার বৃদ্ধ মায়ের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। 

ধর্মশিং চাকমার মরদহ একনজড় দেখছেন দাহক্রিয়া অংশগ্রহণকারীরা। 
ধর্মশিং চাকমার মরহেদ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের প্রথমে শহীদ ধর্মশিং চাকমার মরদেহের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান ইউপিডিএফের রাঙামাটি সদর উপজেলার সংগঠক সচল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি চয়ন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তন চাকমাসহ নেতা-কর্মী ও এলাকার সাধারণ জনগণ।

 মরদেহের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

এরপর রীতি অনুযায়ী ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে শোকসভা করা হয়। ধর্মশিং চাকমার সহধর্মিণীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সংগঠনের পতাকা। 

উক্ত শোক সভায় পিসিপি’র জেলা সভাপতি চয়ন চাকমার সঞ্চালনায় ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও ইউপিডিএফ প্রতিনিধি তনুময় চাকমা।

ধর্মশিং চাকমার সহধর্মিণীর হাতে সংগঠনের পতাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে।

শোক সভায় বক্তারা বলেন, পরিবারের সদস্য হারানো যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি সহযোদ্ধা হারানোর যন্ত্রণা আরো বেশী বেদনাদায়ক। সহযোদ্ধা ধর্মশিং চাকমার সাথে দীর্ঘসময় কাজ করেছি এবং অধিকার অর্জনের স্বপ্ন বুনেছি। পাহাড়ের মানুষদের অধিকারের জন্য কাজ করে গেছি।

বক্তারা আরো বলেন, সন্তু লারমা আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষার জন্য শাসকগোষ্ঠীর অঙ্গুলী হেলনে ভ্রাতৃহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মশিং চাকমাকে হত্যা করে চুক্তি বাস্তবায়ন হবে না সন্তু লারমাও জানেন, কিন্তু তার দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছেন।


বক্তারা সন্তু লারমাকে প্রশ্ন করে বলেন, ভূমি বেদখল, নারী ধর্ষণ ও সকল অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটা কি শহীদ ধর্মশিং চাকমার অপরাধ?

অনুষ্ঠানে শহীদ ধর্মশিং চাকমার কফিনের সামনে সকল অন্যায়-অত্যাচার, জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে অবিচল থাকার শপথ গ্রহণ করা হয়।

শোকসভা শেষে ধর্মশিং চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এতে তার নিজগ্রামসহ আশে-পাশের এলাকার জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

মরদেহের সামনে মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে শপথ গ্রহণ করছেন নেতা-কর্মীরা। 
দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী লোকজন।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল সোয়া ৬টার সময় সন্তু লারমার জেএসএসের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় হানা দিয়ে ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমাকে তাকে রক্ষা করতে চাইলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও গুলি চালায়। এতে তারা দু’বোনই ডান হাতে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্মশিং চাকমার মরদেহ রাঙামাটি সদর থানায় নিয়ে যায়। এরপর বিকালে থানা থেকে মরহেদটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। 



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More